যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে হামলার পক্ষে সমর্থন যুক্তরাষ্ট্রে খুবই সীমিত। একই সময়ে খামেনি হত্যার পর সংঘাতে প্রথম মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে।
রয়টার্স-ইপসোসের জরিপটি শনিবার শুরু হয়ে রোববার শেষ হয়, মার্কিন প্রশাসন প্রথম সেনা নিহতের ঘোষণা দেওয়ার আগেই। এতে অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন হামলাকে সমর্থন করেছেন। ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত অবস্থান জানিয়েছেন।
রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও তা একতরফা নয়। ৫৫ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন, ১৩ শতাংশ বিরোধিতা করেছেন এবং ৩২ শতাংশ নিশ্চিত নন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রায় ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, যদি এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনারা নিহত বা আহত হন, তাহলে তাদের সমর্থন কমে যাবে।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ হামলার বিরোধিতা করেছেন। মাত্র ৭ শতাংশ সমর্থন জানিয়েছেন এবং ১৯ শতাংশ অনিশ্চিত রয়েছেন।
রোববার ট্রাম্প সংঘাতকে ‘ন্যায়সঙ্গত মিশন’ আখ্যা দিয়ে তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করেন, নিহত তিন মার্কিন সেনার ঘটনা হয়তো শেষ নয়। খামেনি হত্যার পর তিনি ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। তবে জরিপের ফল বলছে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশ এই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই জনমত আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন। এখন নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জড়িত হওয়া তার সমর্থকগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানি বা তেলের দাম বাড়লে তারা ইরানবিরোধী অভিযানের সমর্থন কমিয়ে দেবেন। এতে ৩৪ শতাংশ রিপাবলিকান এবং ৪৪ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার রয়েছেন।
নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযান বন্ধে ‘যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব’ পাসের দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, মার্কিন সেনাদের মৃত্যু প্রমাণ করে যে সংঘাতের মূল্য বাস্তব এবং তাৎক্ষণিক।
এদিকে সংঘাতে ইরানে অন্তত ২০১ জন, ইসরায়েলে নয়জন, ইরাকে দুজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন এবং কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জনমত আরও দ্রুত বদলাতে পারে। আর সেই পরিবর্তিত জনমতই নির্ধারণ করতে পারে—যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে কতদূর এগোবে।
















