নেপালের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী মুখ এখন তুমুল আলোচনায়—৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ, যিনি সবার কাছে পরিচিত ‘বালেন’ নামে। এক সময়ের জনপ্রিয় র্যাপ শিল্পী, পরে কাঠমান্ডুর মেয়র—এবার তার লক্ষ্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ।
হাজারো সমর্থকের সামনে কালো চশমা খুলে চোখে চোখ রেখে ভালোবাসার বার্তা দেওয়া এই তরুণ নেতাকে ঘিরে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল আগ্রহ। ২০২২ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি মূলধারার দলগুলোকে বিস্মিত করেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন বালেন। অনেক তরুণ তাকে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে দেখতে চাইলেও তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশিলা কার্কিকে সমর্থন দেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেটি ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
এবার তিনি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রার্থী হিসেবে ঝাপা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—সরাসরি ওলির বিপক্ষে। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে ওলির দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবুও বালেন আত্মবিশ্বাসী।
রাজনীতিতে আসার আগে ২০১৩ সালে একটি জনপ্রিয় র্যাপ প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। তার গান দুর্নীতি, রাজনৈতিক স্বার্থবাদ এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে। ‘নেপাল হাসेको’ ও ‘বলিদান’ শীর্ষক গান দুটি গত বছরের আন্দোলনে তরুণদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। বিভিন্ন মাধ্যমে তার বিপুল অনুসারী রয়েছে। প্রচলিত গণমাধ্যম এড়িয়ে তিনি সরাসরি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন।
তবে তাকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অতীতে তিনি বিদেশি শক্তি ও দেশীয় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা, ‘বৃহত্তর নেপাল’ মানচিত্র টাঙানো এবং প্রশাসনিক ভবন নিয়ে তীব্র বক্তব্য তাকে সমালোচনার মুখেও ফেলেছে।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থান তাকে আলোচনায় রাখে। নির্বাচনী প্রচারে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টিও সমালোচনা তৈরি করে, যদিও পরে জানা যায় সেটি সাময়িকভাবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল।
সমালোচকদের মতে, তার রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সীমিত যোগাযোগ প্রশ্নের জন্ম দেয়। তবে সমর্থকদের দৃষ্টিতে তিনি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে এক বিকল্প শক্তি, যিনি পরিবর্তনের প্রতীক।
নেপালের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ। সেই তরুণদের আস্থাই এখন বালেনের সবচেয়ে বড় পুঁজি। এখন দেখার বিষয়, র্যাপ শিল্পী ও মেয়র হিসেবে সাফল্যের পর তিনি কি দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদেও নতুন ইতিহাস গড়তে পারেন।















