যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংযম ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে যুক্তরাষ্ট্র “বৃহৎ সামরিক অভিযান” শুরু করেছে, যার লক্ষ্য ইরানের হুমকি নির্মূল করা। তিনি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস ও নৌবাহিনী ভেঙে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
ইসরায়েল
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের “অস্তিত্বগত হুমকি” দূর করা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, যৌথ হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে চলছিল।
ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয়। তেহরান ঘোষণা করে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ এখন বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইরান কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে।
জাতিসংঘ
মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানান। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার কথা বলেন।
ওমান
দীর্ঘদিনের মধ্যস্থতাকারী ওমান সংঘাত বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীরে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানায়। তারা অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি তোলে।
জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য
তিন দেশের নেতারা ইরানের আঞ্চলিক হামলার নিন্দা জানিয়ে স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানান। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, ব্রিটিশ বাহিনী আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা তৎপরতায় সক্রিয় রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশসমূহ
কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েত ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিজেদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। সৌদি আরব সতর্ক করে দেয়, এ ধরনের হামলার “ভয়াবহ পরিণতি” হতে পারে।
রাশিয়া ও চীন
রাশিয়া অভিযোগ তোলে যে পারমাণবিক আলোচনা আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। চীন অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ ও সংলাপ পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানায় এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলে।
অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
ভারত, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ডসহ একাধিক দেশ সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। নরওয়ে বলেছে, প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য তাৎক্ষণিক ও আসন্ন হুমকির প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কানাডা ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব উল্লেখ করেছে।
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ায় একটি বিষয় স্পষ্ট—সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রবল। এখন নজর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে কি না।
















