কৃষ্ণাঙ্গ ও এলজিবিটিকিউ অ্যাথলেটদের রেকর্ড অংশগ্রহণ; ক্রীড়াবিশ্বে বড় পরিবর্তনের সুর
মিলানো কর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিক কেবল ক্রীড়া নৈপুণ্যের জন্য নয় বরং বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখাতে যাচ্ছে। এবারের আসরে রেকর্ড সংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ এবং এলজিবিটিকিউ প্লাস অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ শীতকালীন ক্রীড়া জগতের চিরাচরিত দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকা মহাদেশের দেশগুলো থেকে আসা অ্যাথলেটরা বরফের খেলায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছেন যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
মিলানো কর্টিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেটদের বৈচিত্র্যময় উপস্থিতির বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
এলজিবিটিকিউ প্লাস অ্যাথলেটদের রেকর্ড অংশগ্রহণ এবারের আসরটি শীতকালীন অলিম্পিকের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে এবার মিলানো কর্টিনায় অন্তত ৫৪ থেকে ৬০ জন অ্যাথলেট নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে অংশ নিচ্ছেন।
২০২২ সালের বেইজিং অলিম্পিকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ জন। এবারের আসরে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রেট ব্রিটেন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলো থেকে ৫০ জনেরও বেশি অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন যা একটি বড় মাইলফলক। এছাড়া সুইডেনের এলিস লুন্ডহম প্রথম প্রকাশ্য ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ হিসেবে শীতকালীন গেমসে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।
কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটদের নতুন উচ্চতা শীতকালীন অলিম্পিকে সাধারণত কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটদের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও ২০২৬ সালে সেই চিত্র বদলে গেছে। বিশেষ করে টিম ইউএসএ এবার অন্তত ১০ জন কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটকে পাঠিয়েছে যারা হকি, স্পিড স্কেটিং এবং ববস্লেডের মতো খেলায় পদকের জন্য লড়ছেন। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকেও রেকর্ড সংখ্যক অ্যাথলেট এবার বরফের লড়াইয়ে নেমেছেন। নাইজেরিয়া, ইরিত্রিয়া, কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ৮টি দেশ থেকে ১৪ জন অ্যাথলেট এবার মিলানো কর্টিনায় উপস্থিত হয়েছেন যা গত আসরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
একনজরে পরিসংখ্যান
| গোষ্ঠী | ২০২৬ অংশগ্রহণ | বিশেষ সাফল্য |
| এলজিবিটিকিউ+ অ্যাথলেট | প্রায় ৬০ জন | রেকর্ড সংখ্যক অংশগ্রহণ; প্রথম ট্রান্স পুরুষ (এলিস লুন্ডহম) |
| কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেট (যুক্তরাষ্ট্র) | ১০+ জন | লায়লা এডওয়ার্ডস: মার্কিন হকি ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী |
| আফ্রিকান দেশসমূহ | ১৪ জন (৮ দেশ) | শীতকালীন অলিম্পিকের ইতিহাসে বৃহত্তম আফ্রিকান দল |
লায়লা এডওয়ার্ডস ও এরিন জ্যাকসনের গৌরবগাথা এবারের গেমসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লায়লা এডওয়ার্ডস এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অলিম্পিক নারী আইস হকি দলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী খেলোয়াড় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং কানাডার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে দলের জয়ে ভূমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে স্পিড স্কেটার এরিন জ্যাকসন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্কিন পতাকাবাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যা শীতকালীন ক্রীড়ায় কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বহিঃপ্রকাশ। এছাড়া নাইজেরিয়ার স্যামুয়েল ইকপেফান এককভাবে ক্রস-কান্ট্রি স্কিইংয়ে অংশ নিয়ে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
নতুন দিনের বার্তা শীতকালীন অলিম্পিকের এই বদলে যাওয়া চিত্র প্রমাণ করে যে খেলাধুলা কেবল নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা অঞ্চলের জন্য নয়। মিলানো কর্টিনা ২০২৬-এর এই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতিগত ও লিঙ্গগত বৈষম্য কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
















