খেজুরের কাঁচা রস পান ও অসচেতনতা তৈরি করছে বড় হুমকি
দেশের ৩৫টি জেলায় প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হলেও মানিকগঞ্জে এর ঝুঁকি এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে খেজুরের কাঁচা রস পানের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও জেলাজুড়ে জনসচেতনতার অভাব ও উৎসবের আমেজ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
মানিকগঞ্জে নিপাহ ভাইরাসের ভয়াবহতা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালের শুরুতে, যখন সদর উপজেলার ঘোস্তা গ্রামের বাবুল হোসেন কাঁচা রস পান করে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়দের মাঝে কাঁচা রস পানের প্রবণতা কমেনি।
মানিকগঞ্জের বর্তমান পরিস্থিতির মূল চিত্র:
- সংক্রমণের উৎস: হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ভাদিয়াখোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে খেজুর বাগানগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে কাঁচা রস বিক্রি হচ্ছে। বাদুড় ঠেকাতে গাছে কোনো নেট বা জাল ব্যবহার না করেই এই রস সরাসরি সংগ্রহ ও পান করা হচ্ছে।
- পর্যটন ও জনসমাগম: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে ঢাকা, সাভার, দোহার ও নবাবগঞ্জ থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ কাঁচা রস পান করতে মানিকগঞ্জে আসছেন। প্রতি লিটার রস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- অসচেতনতা: রস পান করতে আসা দর্শনার্থীদের মতে, “অনেকেই খাচ্ছে, তাই আমরাও খাচ্ছি”—এমন মানসিকতা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ বাদুড়ের লালা বা মলমূত্রের মাধ্যমেই এই ভাইরাস রসে মিশে যায়।
- পরিসংখ্যান: মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাতেই প্রায় ১২ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে, যার বড় একটি অংশ থেকে বর্তমানে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা ও উদ্বেগ: মানিকগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তিনি স্পষ্টভাবে কাঁচা খেজুরের রস পান করতে নিষেধ করেছেন। নিপাহ ভাইরাসের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন না থাকায় এই রস পুরোপুরি পরিহার করাই এখন একমাত্র সুরক্ষাকবচ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা রস পানের পর জ্বরের সাথে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অচেতন হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত আইইডিসিআর (IEDCR) হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। একটি ছোট ভুল সিদ্ধান্ত বাবুল হোসেনের মতো আরও অনেকের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।
















