দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জাপান ও ফিলিপাইন নতুন দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় এই চুক্তিগুলো সই হয়, যার একটি যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণের সময় দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে করমুক্তভাবে রসদ ও সেবা বিনিময়ের সুযোগ দেবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টোকিও ও ম্যানিলা তাদের সামরিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে তারা একটি নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে যুক্ত হয়েছে এবং জাপান এরই মধ্যে ফিলিপাইনকে টহল নৌকা ও যোগাযোগ সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
ফিলিপাইন ও চীনের মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। অঞ্চলটির প্রায় পুরো অংশ নিজেদের বলে দাবি করে বেইজিং, যদিও আন্তর্জাতিক আদালত সেই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে রায় দিয়েছে। এই বিরোধকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
নতুন চুক্তির আওতায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো ‘অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’-এ স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে যৌথ প্রশিক্ষণ বা মহড়ার সময় গোলাবারুদ, জ্বালানি, খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কর ছাড়াই বিনিময় করা যাবে।
এ ছাড়া জাপান ফিলিপাইনকে প্রায় ৬০ লাখ ডলারের সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। এই অর্থ দিয়ে জাপান প্রদত্ত দ্রুতগামী নৌকা রাখার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যা ফিলিপাইনের নৌ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই রসদ বিনিময় চুক্তি দুই দেশের সামরিক প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয় আরও শক্তিশালী করবে এবং আগেই স্বাক্ষরিত ভিজিটিং ফোর্সেস চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ ও আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতাসহ আইনের শাসন রক্ষার গুরুত্বে দুই দেশই একমত।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তি প্রয়োগ বা চাপ সৃষ্টি করে একতরফাভাবে বর্তমান পরিস্থিতি বদলের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতায় তারা একমত হয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করেননি, বক্তব্যটি বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক আচরণের দিকেই ইঙ্গিত করে।
এর আগে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুই দেশ ‘রেসিপ্রোকাল অ্যাক্সেস এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে, যা একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন ও বৃহৎ যৌথ মহড়া, এমনকি সরাসরি গুলি ছোড়া অনুশীলনের সুযোগ দেয়। ওই চুক্তি গত সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
এদিকে জাপান ও চীনের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ভূখণ্ডগত বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই জটিল। গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, সে ক্ষেত্রে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে—এমন মন্তব্য করার পর সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ বেইজিং বিভিন্ন অর্থনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নতুন বছরের ভাষণে তাইওয়ানের সঙ্গে চীনের ‘পুনরেকত্রীকরণ’ অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন। তার কয়েক দিন আগেই চীনের সেনাবাহিনী তাইওয়ান ঘিরে অবরোধের অনুশীলন হিসেবে সরাসরি গুলি ছোড়ার মহড়া সম্পন্ন করে।
















