গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলাতে ব্যর্থ হয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইচ্ছা থেকে সরে আসেননি।
ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেখানে তারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন করানো সম্ভব হয়নি। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে ধরে রেখেছেন।
গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতায় তারা আগ্রহী, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায়। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও আর্কটিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তাদের অবস্থান পরিষ্কার।
বৈঠকে কোনো সমাধান না আসায় দুই পক্ষ একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই গ্রুপ আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং একই সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সীমারেখা কীভাবে রক্ষা করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করবে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড সরকারের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা প্রতিনিধিত্বকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেকোনো আলোচনায় সেখানকার আদিবাসী কালাল্লিত জনগোষ্ঠীর মতামত গুরুত্ব দিতে হবে। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এর আগে ইউরোপীয় মিত্ররা আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি আবারও দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় থাকা প্রয়োজন।
বুধবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ডেনমার্কের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাশিয়া বা চীন আক্রমণ করলে ডেনমার্ক আদৌ গ্রিনল্যান্ড রক্ষা করতে পারবে কি না। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন সেনা মোতায়েন আছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় এই উপস্থিতি আরও বাড়ানো সম্ভব। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়, তবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।
















