থাইল্যান্ডে একের পর এক ক্রেন দুর্ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে নতুন করে একটি ক্রেন ভেঙে পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন। এর মাত্র এক দিন আগেই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরেকটি ক্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার সকালের দুর্ঘটনাটি ঘটে ব্যাংককের কাছের সামুত সাখন প্রদেশে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, একটি উড়াল সড়ক নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ক্রেন হঠাৎ ভেঙে নিচের সড়কে পড়ে যায়। এতে দুটি যানবাহন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি প্যারিস ইন গার্ডেন হোটেলের সামনে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনাস্থলে ধুলা ও ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী পিফাত রাচাকিতপ্রাকার্ন জানান, আগের দিন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মারাত্মক দুর্ঘটনাটির মতো এই ঘটনাতেও একই নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জড়িত ছিল। ওই কোম্পানি চীন-সমর্থিত উচ্চগতির রেল প্রকল্পের একটি অংশ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। বুধবার নাখন রাচাসিমা প্রদেশে সেই প্রকল্পের কাজ চলাকালে একটি বিশাল ক্রেন চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ে যায়। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে যায় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
সামুত সাখনের যে রামা টু এক্সপ্রেসওয়েতে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে। অতীতেও এই সড়কে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটায় এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ডেথ রোড’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
পরিবহনমন্ত্রী জানান, বুধবারের ট্রেন দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডে শিল্প ও নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সাম্প্রতিক দুই দিনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা সেই পুরোনো সমস্যাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
















