তদন্ত প্রতিবেদনে অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিপূর্ণ সরঞ্জামের চিত্র, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা
নানা অব্যবস্থাপনা, জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি এবং অনিরাপদ বৈদ্যুতিক কাঠামোর কারণে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর বর্তমানে ভয়াবহ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে জমা দেওয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গত ১৭ নভেম্বর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিউজ্জামান এবং একজন সহকারী প্রকৌশলী বিমানবন্দরটি পরিদর্শন শেষে এই রিপোর্ট জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিমানবন্দরের উচ্চ ভোল্টেজ প্যানেল (এইচটি), ট্রান্সফরমার, জেনারেটর এবং জরুরি ফিডার প্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে এইচটি প্যানেলের একটি ডিসিবি সম্পূর্ণ অকেজো এবং অন্যটি থেকে বৈদ্যুতিক ডিসচার্জ বা স্ফুলিঙ্গ দেখা যাচ্ছে, যা থেকে যেকোনো সময় আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এছাড়া ট্রান্সফরমার ঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং এলটি প্যানেলের ক্যাবলগুলোতে জট পাকিয়ে থাকায় শর্টসার্কিটের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বিমানবন্দরের জেনারেটরের অটো চার্জিং সিস্টেম অকেজো এবং গত তিন বছর ধরে প্রয়োজনীয় ফিল্টার মজুত নেই। এমনকি রানওয়ের এজিএল সিস্টেমের কোনো ব্যাকআপ স্পেয়ার না থাকায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। রেস্ট হাউজ সংলগ্ন ইমারজেন্সি ফিডার প্যানেলটিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা থেকে বিস্ফোরণ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড বজায় রাখতে দ্রুত এসব সরঞ্জাম সংস্কার বা প্রতিস্থাপনের সুপারিশ করেছেন প্রকৌশলীরা। তবে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ম্যানেজার দিলারা পারভীন এমন কোনো তদন্ত বা রিপোর্টের বিষয়ে তার অনবগতির কথা জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পদহানির ঝুঁকি দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।















