মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণ করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পরও দেশটির বহু নাগরিক প্রকাশ্যে আনন্দ প্রকাশ করতে সাহস পাচ্ছেন না। কারণ, মাদুরোর শাসনামলে গড়ে ওঠা দমনমূলক রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো প্রায় অক্ষত রয়েছে।
কারাকাসের এক বাসিন্দা মারিও জানান, সাবেক প্রেসিডেন্টের পতনের পরও প্রকাশ্যে উদযাপন করলে গ্রেপ্তার বা হয়রানির আশঙ্কা রয়েছে। মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ানো হলেও তার অতীত ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মাদুরো অপসারণের পর পুলিশ অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মাদুরোর আটক নিয়ে আনন্দ প্রকাশ বা ব্যঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থার আদেশে নিরাপত্তা বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বা সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ভীতির পরিবেশ আরও তীব্র হয়েছে।
অনেক নাগরিক এখন মোবাইল ফোনের বার্তা মুছে ফেলছেন, রাজনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এড়িয়ে চলছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে সেন্সর করছেন। মারিও জানান, নিরাপত্তা চেকপোস্ট ও সরকারপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর মুখোমুখি হওয়া এড়াতে তিনি প্রধান সড়ক ব্যবহারও বন্ধ করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরো শাসনের দমন-পীড়নের কাঠামোর অংশ ছিলেন। তার সময়ে গোয়েন্দা সংস্থা সেবিনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও বেআইনি আটকসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে একজন বিতর্কিত সাবেক কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর ব্যাপক ধরপাকড় ও দমন-পীড়নের স্মৃতি এখনো মানুষের মনে তাজা। সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের ‘আকস্মিক ধাক্কা’ সেই ভীতিকে আরও গভীর করেছে। অনেকের আশঙ্কা, বর্তমান প্রশাসনও আগের মতো কঠোর কৌশলে ফিরে যেতে পারে।
কারাকাসের এক ফুল বিক্রেতা বলেন, ফোনে মাদুরোকে নিয়ে কোনো ব্যঙ্গচিত্র থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়ার ভয় রয়েছে। এই আতঙ্কের কারণেই মানুষ রাস্তায় বা প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস করছে না।
















