কক্সবাজারের বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) এক গৌরবময় ও আনন্দঘন পরিবেশে “গৌরবময় সাফল্যের পথে যাত্রা” শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.টি.এম. নুরুল বশর চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের এ সংবর্ধনা তাদের মেধা ও অর্জনের যথাযথ স্বীকৃতি। একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল দেশ গঠনে জ্ঞান-বিজ্ঞানে কৃতিত্ব অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, নীতিবান শিক্ষা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, একসময় দেশে গুম ও খুনের মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং কক্সবাজারের কৃতিসন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শায়খ মোহাম্মদ আব্দুল হাই নদভী।
সভাপতির বক্তব্যে রাহবরে বায়তুশ শরফ শাইখ আল্লামা আব্দুল হাই নদভী বলেন, বায়তুশ শরফ একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যার ভিত্তি স্থাপন করেন শাইখ মীর মুহাম্মদ আখতার। তিনি ১৯৭১ সালে মক্কা শরীফে ইন্তিকাল করেন।
পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও সম্প্রসারিত করেন মরহুম আল্লামা আব্দুল জব্বার এবং বাহরুল উলুম মরহুম কুতুব উদ্দিন, যাঁদের নেতৃত্বে বায়তুশ শরফ দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, বায়তুশ শরফ কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এমন একটি কেন্দ্র, যেখানে কুরআন-হাদিসের জ্ঞানের পাশাপাশি নীতি-নৈতিকতা, আদব-কায়দা ও মানবিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেওয়া হয়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের সাথে যদি নৈতিকতা ও শিষ্টাচার যুক্ত না থাকে, তবে একটি উন্নত ও আদর্শ জাতি গঠন সম্ভব নয়।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সত্যিকারের জ্ঞান অর্জনের জন্য নিয়মিত অধ্যয়ন, গবেষণা ও ব্যাপক পড়ালেখার কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অবদান রাখতে হলে জ্ঞানচর্চার প্রতি আন্তরিক হতে হবে।
পীর সাহেব বায়তুশ শরফ আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মরহুম আল্লামা আব্দুল জব্বারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ও অনুরাগী ছিলেন।
একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তাঁর সার্বিক সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।
তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও দ্বীনি মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গঠনে বায়তুশ শরফের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সারা দেশে বায়তুশ এর মাধ্যমে ৭০০ শতাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি অনেক বর কথা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বায়তুশ শরফের মহাপরিচালক এম.এম. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল মৌলিক সুযোগ-সুবিধা এ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান। তবে প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে, যখন শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বের হয়ে মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সৈয়দ করিম। বক্তব্য রাখেন,
কক্সবাজার জেলা শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তফা, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, দৈনিক ইনকিলাবের ব্যুরো প্রধান শামসুল হক শারেক, অভিভাবক প্রতিনিধি সুরেন্দ্রনাথ পাল, শব্দায়ন একাডেমির পরিচালক জসিম উদ্দিন বকুল, সিনিয়র শিক্ষক রেজাউল করিম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তৈয়ব। তারা প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জুনিয়র (৮ম শ্রেণি) বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এ প্রতিষ্ঠানের অসাধারণ সাফল্য তুলে ধরা হয়। এতে ট্যালেন্টপুলে ৩০ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৫৩ জনসহ মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি জেলায় শীর্ষস্থান অর্জন এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে তৃতীয় স্থান লাভ করে অনন্য কৃতিত্ব স্থাপন করেছে।
কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আবতাহি মোহাম্মদ আল মাওয়াদ বক্তব্য প্রদান করে বলেন, বিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনাই এ সাফল্যের মূল ভিত্তি।পরিশেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এক আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
















