মিয়ানমারে সামরিক সরকারের আয়োজিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশটির প্রধান সামরিকপন্থী দল বড় ধরনের এগিয়ে থাকার দাবি করেছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও সমালোচকদের মতে, কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই নির্বাচন মূলত ক্ষমতাসীনদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতেই আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ভোটের পর আরও দুটি ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোট ৬৫টি টাউনশিপে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।
সামরিকপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি ইউএসডিপির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, যেখানে ভোট গণনা শেষ হয়েছে সেই সব এলাকায় নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৮২টিতে তাদের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এর মাধ্যমে রোববারের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিত হওয়া আসনের ৮০ শতাংশেরও বেশি তারা দখল করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, রাজধানী নেপিদোতে সব আটটি টাউনশিপেও ইউএসডিপি জয়ী হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ভিন্নমত দমনের মধ্যেই এই ভোট আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রচার সংগঠন অভিযোগ করেছে, প্রার্থী তালিকায় মূলত সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই প্রাধান্য পেয়েছেন।
দেশটির মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মাত্র এক তৃতীয়াংশ এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সেনাবাহিনী ও বিরোধী শক্তির সংঘর্ষ চলায় দেশের বড় অংশে ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি। ওই অভ্যুত্থানে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসডিপি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হবে এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই দলটিকে সামরিক বাহিনীর বেসামরিক মুখ হিসেবে দেখা হয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে অবশ্য ইউএসডিপি সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল। বর্তমানে এনএলডিসহ মোট ৪০টি রাজনৈতিক দল সামরিক সরকারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সু চি এখনও আটক রয়েছেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে যে তারা আবার বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি ডিক্রির মাধ্যমে দেশ শাসন করে আসছেন।
সামরিক ক্ষমতা দখলের পর দেশজুড়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গণতন্ত্রপন্থী কর্মীরা বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৯০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৩৫ লাখ এবং প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক বন্দিদের সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ২২ হাজারের বেশি মানুষ রাজনৈতিক অভিযোগে আটক রয়েছেন।
















