আসন্ন ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে কি না—সংবাদকর্মীদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর অন্য সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনানুগ সাজা কার্যকর করতে প্রতিবেশী ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ-এর প্রতিনিধি ও নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা বিভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এবং গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাসহ তার সকল দোষরকে দেশে ফেরত পাওয়ার জন্য বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) অনুসারে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে আবেদন জানিয়েছি। যে দেশে তারা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মাধ্যমের মাধ্যমে এই ফেরত চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে।”
বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আজকেই যদি তাদেরকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তিত করা হয় কিংবা এক্সট্রাডিটেড করে সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তবে আমরা তাদের সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে দেশের আইনের আওতায় আনব। আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের সাজা কার্যকরে যাবতীয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ডিসেম্বর মাসের আন্দোলন নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “এখানে ডিসেম্বর-ডিসেম্বর বলে কৃত্রিম একটি হাইপ বা উত্তেজনা তৈরি করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে একটি মহল। এর মাধ্যমে তারা মূলত তাদের পলাতক নেতাকর্মীদের একটু বুস্ট আপ বা মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এই ধরনের কোনো চক্রান্তই এ দেশের মাটিতে কখনো সফল হবে না।”
উল্লেখ্য, সচিবালয়ে আয়োজিত এই জরুরি বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















