ঢাকা শহরজুড়ে একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত এক মাসে ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে গত সপ্তাহেই ১১টি লাশ পাওয়া গেছে। এই বীভৎস পরিস্থিতি শহরটিকে এক আতঙ্কের নগরীতে পরিণত করেছে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার, যখন ঢাকার পাঁচটি ভিন্ন স্থান থেকে আইনজীবীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লালবাগের একটি বাসা থেকে আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা অন্তত তিন দিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই দিনে শাহবাগ, সুপ্রিম কোর্ট এলাকা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আরও তিন ভবঘুরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আদাবর থেকে উদ্ধার করা হয় এক নারীর খণ্ডিত দেহ। নিহতদের পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা রয়ে গেছে।
পুলিশ ময়নাতদন্ত ও ছায়াতদন্তের কাজ দ্রুতগতিতে করলেও কোনো লাশের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। গত ১১ সেপ্টেম্বর লালবাগে ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসীম এবং যাত্রাবাড়ীতে রাব্বি নামের এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাও এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, পুলিশি ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার না করার সুযোগ অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব অপরাধ দমনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে রহস্যের জট না খোলায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
Reporter Name 













