মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলবর্তী সাফি প্রদেশে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোববার স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এসএনআরটি নিউজ জানায়, আকস্মিক বৃষ্টির পর অন্তত ১৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে সাফির পুরোনো শহর এলাকার অন্তত ৭০টি বাড়ি ও দোকান পানিতে তলিয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, কাদামাখা পানির স্রোতে শহরের সড়ক দিয়ে গাড়ি ও আবর্জনার বিন ভেসে যাচ্ছে। রাজধানী রাবাত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বন্দরনগরীতে বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সাফি প্রদেশের প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গত বাসিন্দাদের সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মারুয়ান তামের সংবাদ সংস্থাকে বলেন, পানি সরাতে সরকারি ট্রাক না পাঠানোয় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে বন্দরনগরীর সঙ্গে সংযোগকারী বেশ কয়েকটি রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় সংবাদপত্রের খবরে বলা হয়েছে, সাফি থেকে হরারা শহরগামী প্রাদেশিক সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সাফি অঞ্চলের প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তর সোমবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যার দিকে পানি নামতে শুরু করলে বাসিন্দারা কাদা ও পানিতে ভেজা এলাকা থেকে নিজেদের মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেন।
এদিকে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘ সাত বছরের খরার পর মরক্কো বর্তমানে টানা বৃষ্টি ও আটলাস পর্বতমালায় তুষারপাতের মুখে পড়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল ছিল মরক্কোর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর।
এর আগে ২০২১ সালে ভারী বৃষ্টিজনিত বন্যায় মরক্কোতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৫ সালেও প্রবল বর্ষণে দেশজুড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। সর্বশেষ এই বন্যার ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন গত সপ্তাহেই ঐতিহাসিক শহর ফেজে দুটি ভবন ধসে ১৯ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছিলেন।
















