হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী অ্যাকাউন্টের উসকানিমূলক প্রচার
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার পর ভারত থেকে পরিচালিত একাধিক অনলাইন অ্যাকাউন্ট হামলাকারীদের নিজেদের এজেন্ট দাবি করে উল্লাস প্রকাশ করেছে এবং ঘটনাটিকে ভারতের স্বার্থরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে অপপ্রচার চালিয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার ব্যস্ত সড়কে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলেও, এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী অনলাইন অ্যাকাউন্টে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা আট আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর হত্যাচেষ্টার পর এসব অ্যাকাউন্ট হামলাকারীদের ভারতীয় স্বার্থরক্ষাকারী এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রকাশ্যে উল্লাস করেছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেছন থেকে মোটরসাইকেলে এসে দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তি ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘটনার নিন্দা জানালেও, ভারতের একাংশ অনলাইনে ভিন্ন সুরে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
স্বাধীন অনুসন্ধানী গণমাধ্যম দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত দুই দিনে এক্স প্ল্যাটফর্মে ভারত থেকে পরিচালিত বহু অ্যাকাউন্ট হামলাকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট দিয়েছে। এসব পোস্টে ওসমান হাদীকে ভারতবিরোধী আখ্যা দিয়ে তার হত্যাচেষ্টাকে প্রয়োজনীয় বলেও দাবি করা হয়।
ভারতের সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর মাধান কুমার এক্সে দাবি করেন, ওসমান হাদী ভারতের উত্তর পূর্ব অঞ্চল দখল করে তথাকথিত গ্রেটার বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন। তার এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ না থাকলেও, একই বক্তব্য সমন্বিতভাবে ছড়িয়ে দেয় আরও কয়েক ডজন ভারতীয় অ্যাকাউন্ট।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব পোস্টে বারবার ধুরন্ধর হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত একটি বলিউড স্পাই অ্যাকশন চলচ্চিত্রের প্রচারণা টার্ম হলেও, এখানে সেটিকে ভারতীয় গুপ্তচর অভিযানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশি রাজনীতিকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভারতীয় অ্যাকটিভিস্টরা ওসমান হাদীর একটি ফেসবুক পোস্টকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে দাবি করেন, তিনি ভারত দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে ওই পোস্টে একটি সাংস্কৃতিক আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যানার শেয়ার করা হয়েছিল, যেখানে ইতিহাস আলোচনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশের মানচিত্র দেখানো হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের মানচিত্র আলাদা রঙে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ছিল।

এদিকে, হামলার আগে থেকেই ওসমান হাদী অনলাইনে ও ফোনে হত্যার হুমকির কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিদেশি নম্বর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করে ভিন্ন ভিন্ন অপপ্রচারও ছড়ানো হয়েছে।


একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ব্যবহার করে হামলাকারীদের পরিচয় জুড়ে দেওয়ার চেষ্টার তথ্যও সামনে এসেছে। দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, এসব ছবি কৃত্রিমভাবে তৈরি বা বিকৃত করা হয়েছে এবং বাস্তব ঘটনার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাচেষ্টাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ছড়ানো অপপ্রচার কেবল একটি অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং আঞ্চলিক রাজনীতি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
















