নড়াইলের লোহাগড়ায় সংযোগ সড়ক না থাকায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে মধুমতী চরের সেতু
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মধুমতী নদীর চরে প্রায় বিশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু দশ বছর ধরে সংযোগ সড়কবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে কৃষক ও স্থানীয়দের কোনো উপকারে আসছে না।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মাকড়াইল গ্রামে মধুমতী নদীর চর এলাকায় নির্মিত একটি সেতু আজও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। প্রায় এক দশক আগে নির্মাণ শেষ হলেও সেতুটির দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কার্যত অচল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দুই হাজার পনেরো থেকে দুই হাজার ষোল অর্থবছরে মাকড়াইল পাকা রাস্তা থেকে মধুমতী নদীর চরের বিল পর্যন্ত এলাকায় একটি চব্বিশ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ছিল উনিশ লাখ চুয়াত্তর হাজার একশ ছাপ্পান্ন টাকা।
সোমবার সকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে বিলাঞ্চলে পানি বেড়ে গেলে কৃষকদের ফসল আনা নেওয়ার সুবিধার জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্তমানে সেতুটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করা হলে কৃষক ও গ্রামবাসী সহজেই এর সুফল ভোগ করতে পারবে।
মাকড়াইল গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, এখানে কোনো খাল বা নদী না থাকলেও বিলের মাঝখানে অকারণে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা না থাকায় এই সেতু আমাদের কোনো কাজে আসছে না। একই গ্রামের লিমন শিকদার বলেন, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিল এলাকায় যেতে হলে দেড় কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়, এমনকি ভ্যানও নেওয়া যায় না।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরিফ মোহাম্মদ রুবেল বলেন, সেতুটি দুই হাজার পনেরো থেকে দুই হাজার ষোল অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়। সে সময় কেন সংযোগ সড়ক করা হয়নি, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে সেতুর দুই পাশে চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নড়াইলের এই সেতুটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্বল বাস্তবায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
















