দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ এলাকায় চীনা কোস্টগার্ডের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন ফিলিপিনো জেলে আহত হয়েছেন এবং দুটি মাছ ধরার নৌকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ফিলিপাইন।
শনিবার ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড জানায়, আগের দিন দেশটির একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত সাবিনা শোলের কাছে প্রায় দুই ডজন ফিলিপিনো মাছ ধরার নৌকার ওপর চীনা কোস্টগার্ড জলকামান ব্যবহার করে। এতে জেলেদের শরীরে আঘাত লাগে এবং নৌকাগুলোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চচাপের জলকামানের পাশাপাশি চীনা জাহাজগুলো আক্রমণাত্মকভাবে নৌকাগুলোর গতিপথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটে পালাওয়ান দ্বীপ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে একটি মাছসমৃদ্ধ এলাকায়।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের মুখপাত্র কমোডর জে তারিয়েলা এক বিবৃতিতে জানান, তিনজন জেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও খোলা ক্ষত রয়েছে। পাশাপাশি দুটি মাছ ধরার নৌকা জলকামানের আঘাতে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কয়েকটি নৌকার নোঙরের দড়িও কেটে দেওয়া হয়, যা জেলেদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
ফিলিপাইন কোস্টগার্ড চীনের প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আচরণবিধি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আইন প্রয়োগের নামে নিরীহ জেলেদের জীবন বিপন্ন করা অনুচিত।
অন্যদিকে, চীন তাদের পদক্ষেপকে বৈধ বলে দাবি করেছে। চীনা কোস্টগার্ডের মুখপাত্র লিউ দেজুন এক বিবৃতিতে বলেন, সাবিনা শোল, যাকে তারা শিয়ানবিন জিয়াও নামে উল্লেখ করে, সেখানে ফিলিপিনো নৌকাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। তিনি জানান, চীনা জাহাজগুলো মৌখিক সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড দাবি করেছে, আহত জেলেদের সহায়তায় পাঠানো তাদের জাহাজগুলোও একাধিকবার চীনা কোস্টগার্ডের বাধার মুখে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সক্ষম হয়।
দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এই সাগরের বিশাল অংশের ওপর চীন দাবি করলেও ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ফিলিপাইনের পক্ষে রায় দেয় এবং চীনের দাবি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা করে। তবে বেইজিং সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও স্কারবরো শোল এলাকায় দুই দেশের জাহাজের মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি অবস্থান ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
















