থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে টানা সংঘর্ষে রক্তপাত ও লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতি যখন চরমে, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন—দুই দেশ আবারও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই দুই দেশের সেনারা গুলি ছোড়া বন্ধ করবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই ঘোষণা দেন। তিনি লিখেছেন, “তারা আজ রাত থেকে সব ধরনের গুলি বন্ধ করতে এবং পূর্বের শান্তি চুক্তিতে ফিরে যেতে রাজি হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সহায়তায় তাদের সঙ্গে আমার করা সেই সমঝোতাই তারা পুনরায় মেনে নিচ্ছে।”
সাম্প্রতিক লড়াইয়ে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫ লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য হয়েছে। উপনিবেশিক যুগের সীমান্তরেখা নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এই সপ্তাহে।
গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় প্রথম যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যা ট্রাম্পের চাপেই বাস্তবায়ন হয় বলে জানা যায়। এরপর অক্টোবরের আঞ্চলিক বৈঠকে তা আরও বিস্তারিতভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। কিন্তু নভেম্বরে সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে থাই সেনারা আহত হলে থাইল্যান্ড সেই সমঝোতা স্থগিত করে দেয়।
এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে কথার লড়াই চলছেই—সহিংসতা শুরুর জন্য একে অপরকে দায়ী করছে তারা। পাঁচ দিন ধরে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থামার কোনো আভাস মিলছিল না।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লেও, থাইল্যান্ড বা কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
তবে এর আগে থাই প্রধানমন্ত্রী আনুতিন জানান, তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে বলেছেন—সহিংসতা বন্ধ করার দায়িত্ব কম্বোডিয়ার। তিনি বলেন, “ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দিয়েছেন, আর আমি তাকে বলেছি এটা আমাদের বন্ধুকে বলতে হবে। বিশ্বকে জানানোর সময় এসেছে—কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি মানতে প্রস্তুত কি না।”
ঠিক কখন দুই পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করবে, বা ময়নাতদন্তের মতো পূর্বশর্তে তারা একমত হবে কি না—সেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে। সীমান্তে আশ্রয় শিবিরগুলোতে meanwhile আতঙ্কের ভেতর দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। তাদের প্রার্থনা একটাই—হোক না এই যুদ্ধবিরতিটাই শেষ যুদ্ধের শেষ রেখা।
















