জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে ঢাকার এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সংলাপ। দুই দেশের মধ্যকার কনস্যুলার পর্যায়ের আসন্ন পঞ্চম এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চাঞ্চল্যকর শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো ও সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কূটনৈতিক সূত্র।
কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসের শেষদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি আয়োজনের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ পক্ষ। তবে প্রতিবেশী দেশটিতে উদযাপিত শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবের ব্যস্ততা ও সার্বিক ছুটির কথা বিবেচনা করে নয়াদিল্লি পক্ষ থেকে নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে এই সংলাপটি আয়োজনের বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন এই কূটনৈতিক সংলাপটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণ বিষয়ে ঠিক কী ধরনের আইনি বা রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করা হয় এবং আলোচনার টেবিলে কী ধরনের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হয়, তা আগামী দিনে ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে মোড় ঘোরানো ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এর পূর্বে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক নোট বা পত্রের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো প্রত্যর্পণ অনুরোধ জানিয়েছিল ঢাকা। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি রায় ঘোষিত হওয়ার পর ভারত সরকারের কাছে আরও একবার নতুন করে তাঁর প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, চলতি মাসের শেষ নাগাদ অথবা আগামী মাসের শুরুতে মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় আলোচনার পাশাপাশি বহুল আলোচিত শেখ হাসিনাসহ তিন অভিযুক্ত অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর বিষয়টি এই বৈঠকে বিশেষ অগ্রাধিকার ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






















