লুসাইল স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে রাতটিতে ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল ফিলিস্তিন। প্রথমবারের মতো তারা পৌঁছেছিল ফিফা আরব কাপ কাতার ২০২৫-এর কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের গভীর অন্ধকারে সৌদি আরবের মোহাম্মদ কান্নোর মাথা থেকে উঠে আসা এক ঝাঁপিয়ে পড়া হেড সেই স্বপ্নকে নিভিয়ে দিল ২-১ গোলের পরাজয়ে।
ম্যাচের ১১৫ মিনিটে কান্নোর সেই গোলই ছিল ভাগ্যলিখন। নির্ধারিত সময় শেষে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকলেও অতিরিক্ত সময় আর টিকতে পারেনি ফিলিস্তিন।
৫৮ মিনিটে সৌদির ফিরাস আল-বুরাইকান পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে নেন। কিন্তু মাত্র ছয় মিনিট পরই ওদাই দাব্বাঘ যেন নিজের হৃদয়ের আগুনে শট নিয়ে সমতা ফিরিয়ে দেন; ডান দিক থেকে আসা লম্বা বলটি প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণ, পরের স্পর্শেই তীব্র শটে জালে পাঠানো—এক নিঃশ্বাসে শিল্পের মতো ফুটবল।
সেমিফাইনালে সৌদি আরব মুখোমুখি হবে জর্ডান অথবা ইরাকের, যারা শুক্রবার মাঠে নামবে।
প্রথমার্ধের গল্প ছিল টানটান উত্তেজনার। সৌদির দখলে ছিল বল আর আক্রমণের দাপট, কিন্তু সুযোগগুলো তৈরি হয়েও গোলমুখে পৌঁছাতে পারেনি। সেলেম আল-দাওসারি কয়েকবার ফিলিস্তিনের ডিফেন্স ভেদ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গোলরক্ষক রামি হামাদার সাহসী ঝাঁপিয়ে পড়া, আর হামের হামদানের চূড়ান্ত মুহূর্তের “টো-পোক”—সবকিছু মিলিয়ে সৌদির গোল দেরিতে এসেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে আল-দাওসারির দুর্দান্ত দৌড় থামাতে গিয়ে পেনাল্টি দিয়ে বসেন মোহাম্মদ সালেহ। সেখান থেকেই আল-বুরাইকান নিখুঁত শটে এগিয়ে দেন দলকে।
কিন্তু ফিলিস্তিনের হৃদয়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার শব্দ ছিল না। দাব্বাঘের গোল সেই অন্তর্গত প্রতিরোধের ঘোষণা। এক প্রতিভার ক্ষুদ্র বিস্ফোরণ যেন—এক স্পর্শে নিয়ন্ত্রণ, পরের স্পর্শে বজ্রপাত।
এরপর সৌদির আলি মাজরাশি দূরপাল্লার এক শটে ক্রসবার স্পর্শ করেন। কান্নোর শেষ মুহূর্তের গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়। নাটকের আরও রং চড়াতে স্যালেহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি ডাক পড়ে, যা ভিএআর বাতিল করে দেয়—আরও এক শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত বাঁচে ফিলিস্তিন।
অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের লড়াই ছিল শিরায় রক্তের মতো উত্তপ্ত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কান্নোর হেডই ভাগ্য নির্ধারণ করে। শেষ মুহূর্তে দাব্বাঘের চোখধাঁধানো ভলিটি যদি গোল হতো—হয়তো ম্যাচ যেত টাইব্রেকারে, হয়তো গল্পটা অন্য পথে যেত। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো নিষ্ঠুর—ফিলিস্তিনের স্বপ্ন তাই আজ থেমে গেল এখানেই।
দিনের অন্য ম্যাচে, ১০ জন নিয়ে খেলেও সিরিয়ার বিপক্ষে ৭৯ মিনিটে ওয়ালিদ আজারোর গোল ১-০ ব্যবধানে জয় এনে দেয় মরক্কোকে। লাল কার্ড দেখা মোহাম্মদ মুফিদের অনুপস্থিতিতেও তারা ধরে রাখতে সক্ষম হয় লিড। সেমিফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার বিজয়ীর।
















