বাংলাদেশে হালাল খাবারের ধারণাটি মূলত পশু জবাইয়ের নিয়ম এবং শূকরের মাংস বা অ্যালকোহলমুক্ত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়। অথচ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে খাদ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক, বিষাক্ত সিসা, ক্ষতিকর রঙ এবং খাদ্যে ভেজালের কারণে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
ইসলাম ধর্মে কেবল খাবার ‘হালাল’ বা বৈধ হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তা ‘তাইয়্যিব’ বা পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও কল্যাণকর হওয়াও আবশ্যিক শর্ত। পবিত্র কোরআনে বৈধ ও কল্যাণকর খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অতএব, খাবারে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান বা ভেজাল বিদ্যমান থাকলে তা পূর্ণাঙ্গ অর্থে হালাল হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বিএসটিআই বাংলাদেশে হালাল সনদ প্রদানের কাজ পরিচালনা করছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ল্যাবরেটরির ঘাটতি রয়ে গেছে। যা কাটিয়ে উঠতে একটি একীভূত ও বিশ্বস্ত জাতীয় হালাল নিশ্চয়তা কাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
একটি কার্যকর হালাল সনদান ব্যবস্থার জন্য শুধু ধর্মীয় বিধান যাচাই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানাগারে ক্ষতিকর ভারী ধাতু, রাসায়নিক ও কীটনাশকের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।


























