থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া আবারও সীমান্ত সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে এবং উভয় পক্ষই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সোমবার থেকে পুনরায় শুরু হওয়া সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, গত দুই দিনে অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। অন্যদিকে, থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আরও দুই সৈন্যের মৃত্যুতে তাদের নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনে, আহত হয়েছে কমপক্ষে ২৯ জন।
রবিবার রাতে নতুন করে গোলাগুলি শুরুর পর উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এক থাই সেনা নিহত হওয়ার পর tens of thousands মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়, ভেঙে পড়ে জুলাইয়ের পাঁচ দিনের সংঘর্ষের পর প্রতিষ্ঠিত নাজুক শান্তি। সে সময় দুই দেশের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছিল এবং ৩ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়।
তবে গত মাসে থাইল্যান্ডের এক সেনা ল্যান্ডমাইনে আহত হওয়ার পর ব্যাংকক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন স্থগিত করে।
কম্বোডিয়ার ‘বাধ্য হয়ে যুদ্ধ’ করার দাবি
কম্বোডিয়ার ক্ষমতাধর সিনেট প্রেসিডেন্ট হুন সেন মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী আগের দিন থাই বাহিনীর দিকে গুলি চালায়নি, তবে থাই সেনারা অগ্রসর হওয়ায় রাতেই পাল্টা হামলায় বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, থাই বাহিনীর অগ্রসরমান এলাকাগুলো লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে “প্রতিআক্রমণে শত্রু বাহিনীকে দুর্বল ও ধ্বংস করা সহজ হবে”।
হুন সেন লিখেছেন, “কম্বোডিয়া শান্তি চায়, কিন্তু নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে।”
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানায়, মঙ্গলবার ভোরে সা কায়ো প্রদেশে এক গ্রামে কম্বোডীয় বাহিনী গোলাবর্ষণ করে, যদিও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সঙ্গে থাই অবস্থান লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে। দুই দেশই দাবি করছে, প্রথম গুলি অপর পক্ষ ছুড়েছে।
কূটনীতির ‘কোনো সুযোগ নেই’
থাই নৌবাহিনী মঙ্গলবার জানায়, তারা ট্রাট উপকূলীয় প্রদেশ থেকে কম্বোডীয় বাহিনীকে হটিয়ে দিতে অভিযান শুরু করেছে। কম্বোডীয় সেনারা সেখানে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, পরিখা খনন, স্নাইপার মোতায়েন ও ভারী অস্ত্র স্থাপন করছে—যা থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের সরাসরি হুমকি বলে ব্যাংকক মনে করছে।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও আল জাজিরাকে বলেন, “কম্বোডিয়া এখনো শান্তির জন্য প্রস্তুত নয়। তারা মুখে প্রস্তুতির কথা বললেও বাস্তবে তার বিপরীত আচরণ করছে। কূটনীতি তখনই কাজ করে, যখন আলোচনার পরিবেশ থাকে। এখন সে পরিবেশ নেই।”
উভয় পক্ষের লড়াইয়ে সীমান্তের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে। থাই সেনাবাহিনীর ২য় রিজিয়ন জানিয়েছে, চারটি সীমান্ত প্রদেশে প্রায় ৫০০ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে যেখানে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছে।
এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ৮১৭ কিমি দীর্ঘ থাই–কম্বোডিয়া সীমান্তের বিভিন্ন অংশ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষ ঘটে, যেমন ২০১১ সালের এক সপ্তাহব্যাপী সশস্ত্র সংঘর্ষ। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) প্রেহ ভিহিয়ার মন্দির এলাকার কিছু অংশ কম্বোডিয়ার বলে রায় দিলেও থাইল্যান্ড ওই রায় স্বীকার করেনি।
সাম্প্রতিক সহিংসতা দেখাচ্ছে—সীমান্ত উত্তেজনা আবারও পূর্ণমাত্রায় ফিরে এসেছে, এবং সমাধানের পথে ফেরার কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না।
















