খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তারেক রহমানের পরিকল্পনা, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের ভূমিকা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে প্রধান বিষয়।
ধর্মের নামে দেশকে বিভাজন করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খামারবাড়িতে একটি কর্মসূচির উদ্বোধনে তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে নতুন বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির লক্ষ্য। তরুণদের ভূমিকা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়েও কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি মহল ধর্মের নামে দেশকে বিভাজন করতে চায় এবং বিএনপিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন চায় না; বরং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দল–মত নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ে তুলতে চায়।
রবিবার (৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো, তরুণদের ভূমিকা এবং আগামীনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তারেক রহমান তাঁর খোঁজ খবর রাখছেন এবং দেশ–বিদেশের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। ফখরুল সবার কাছে খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।
তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ দেখতে চায়। তার ভাষায়, গত ১৫ বছরে “ফ্যাসিস্ট সরকার” রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে ফেলেছে, যার পুনর্গঠনের জন্য বিএনপি জাতির সামনে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছাত্রদলকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনায় ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য রাখা হয়েছে—যা প্রমাণ করে বিএনপি একটি ‘অ্যাডভান্সড রাজনৈতিক দল’। অতীতের নানা ইতিবাচক পরিবর্তন—বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার, নারীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ—এসবই বিএনপির অর্জন বলে দাবি করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ১৫ বছর পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। তাই তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, নতুন বাংলাদেশ তরুণদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে।
কর্মসূচিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলই রাজনীতির প্রথম পাঠশালা। অতীতের মতো আবারও তারা দায়িত্বশীলভাবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বিকেলে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাত দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিনে ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রদল নেতারা অংশ নেন।
















