দক্ষ জনশক্তির ঘাটতিতে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার ঝুঁকি, বাজারচাহিদা–ভিত্তিক প্রশিক্ষণ জরুরি—বিদেশি নিয়োগদাতাদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের।
রংপুরে এক মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন প্রাথমিক শিক্ষার মানকে “ভয়ঙ্কর খারাপ” বলে মন্তব্য করেন। অদক্ষ জনশক্তির কারণে রেমিট্যান্স খাতে সম্ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাজারচাহিদা–মেনে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বর্তমান অবস্থা “ভয়ঙ্কর খারাপ” এবং এর মূল কারণ শিক্ষকদের ডেডিকেশনের ঘাটতি। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা দুর্বল হওয়ার ফলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠছে না, যার প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্স খাতেও। বিশ্ববাজারে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অদক্ষ শ্রমিকরা কম বেতনের কাজে বিদেশে যাচ্ছে এবং এজন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, দেশের দেড় কোটি প্রবাসী কর্মী দক্ষ হলে রেমিট্যান্স বর্তমানের দ্বিগুণ বা তিনগুণ হতে পারত।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, সরকারের যেসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম রয়েছে সেগুলো বিদেশি বাজারচাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই বাজার–গবেষণা, চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ কাঠামো গড়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, কোনো বিদেশি নিয়োগদাতা চাইলে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কানাডা ও জাপানের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে দেশে এসে প্রশিক্ষণ দিতে পারে, সে বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
ভাষা দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আরবি ভাষায় সাবলীলতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে; ইংরেজিতে দক্ষতা আয়কে আরও বাড়িয়ে দেয়। জাপানি ভাষায় এন-ফোর সনদ পেলে জাপানে কাজের পাশাপাশি থাকা–খাওয়ার ব্যয় এবং পড়ালেখার খরচও বহন করা সম্ভব হয়।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, যাদের জয়ের সম্ভাবনা কম থাকে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে; তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্ব শান্তিপূর্ণভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
সভায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
















