Dhaka ১১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য সুনিশ্চিত করা এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের অন্যান্য সকল জেলাতেও এ কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় খাদ্য বিভাগ আয়োজিত কর্মকর্তাদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, মেহনতি কৃষকেরা যাতে খুব সহজে ও কোনো প্রকার দাপ্তরিক হয়রানি ছাড়াই সরকারের কাছে সরাসরি উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সকল বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সাধারণত সরকারিভাবে সরাসরি ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণ কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং অন্যান্য জটিল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি ধান সংগ্রহের সমগ্র প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও লোকবান্ধব করা হবে। দ্রুততম সময়ে পাওনা অর্থ পৌঁছাতে প্রয়োজনে ‘বিকাশ’-এর মতো মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের মোবাইল ওয়ালেটে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত ধান বা ফসলের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সততা, পেশাগত নিষ্ঠা ও কড়া জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

খাদ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জমে থাকা বিভিন্ন জটিল সমস্যাগুলোর রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; এগুলোর সুরাহা করতে কিছু সময়ের প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত যুক্তিযুক্ত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে সব সংকট একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জনগণের স্বার্থে কোন সমস্যাগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাতীয় খাদ্যশস্যের মান ও নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও মানসম্মত সরকারি মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের ব্যাকআপ মজুত বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে আমদানি করা চালসহ সব ধরনের খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গুণগত মান কঠোরভাবে বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো চাল বা অন্য খাদ্যশস্য যদি সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই সরকারি গোডাউনে গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সৃষ্টি না হয়।

খাদ্যশস্য বিতরণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন, সরকারিভাবে বিতরণ করা খাদ্যশস্যের বস্তা বা প্যাকেটে নির্ধারিত সরকারি সিল ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বিতরণের সঠিক লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ থাকলে যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যাতে প্রকৃত নির্ধারিত উপকারভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও বিষাক্ত উপাদানের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ফলে বাজারে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, দুধ, জুস ও অন্যান্য নিত্যভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক যানবাহন বা মোবাইল ল্যাব নেই। তবে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলায় খাদ্যপণ্যের রাসায়নিক ও মান পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ যানবাহন সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা পরীক্ষা করে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও সংকটের কথা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই তাদের গঠনমূলক পরামর্শ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো কৃত্রিম দূরত্ব থাকা উচিত নয়। সকলকে দেশের স্বার্থে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মকর্তাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একক একতিয়ারে সমাধান সম্ভব হবে না, সেগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার মানোন্নয়ন হলে কর্মকর্তারা আরও মনোযোগ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তিন জেলায় সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য সুনিশ্চিত করা এবং অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের অবৈধ প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে প্রাথমিকভাবে দেশের তিনটি জেলায় পরীক্ষামূলক পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের অন্যান্য সকল জেলাতেও এ কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় খাদ্য বিভাগ আয়োজিত কর্মকর্তাদের এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, মেহনতি কৃষকেরা যাতে খুব সহজে ও কোনো প্রকার দাপ্তরিক হয়রানি ছাড়াই সরকারের কাছে সরাসরি উৎপাদিত ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সকল বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সাধারণত সরকারিভাবে সরাসরি ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণ কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা এবং অন্যান্য জটিল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে সরাসরি ধান সংগ্রহের সমগ্র প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও লোকবান্ধব করা হবে। দ্রুততম সময়ে পাওনা অর্থ পৌঁছাতে প্রয়োজনে ‘বিকাশ’-এর মতো মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের মোবাইল ওয়ালেটে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদিত ধান বা ফসলের কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের মূল নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং সাধারণ জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের সততা, পেশাগত নিষ্ঠা ও কড়া জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

খাদ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে আফরোজা খানম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জমে থাকা বিভিন্ন জটিল সমস্যাগুলোর রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়; এগুলোর সুরাহা করতে কিছু সময়ের প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত যুক্তিযুক্ত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে সব সংকট একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয় বলে জনগণের স্বার্থে কোন সমস্যাগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জাতীয় খাদ্যশস্যের মান ও নিরাপত্তা মজুত নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত ও মানসম্মত সরকারি মজুত থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের ব্যাকআপ মজুত বজায় রাখতে হবে। বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে আমদানি করা চালসহ সব ধরনের খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গুণগত মান কঠোরভাবে বজায় রাখার কঠোর নির্দেশ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো চাল বা অন্য খাদ্যশস্য যদি সরকার নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই সরকারি গোডাউনে গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যশস্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরই যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ সৃষ্টি না হয়।

খাদ্যশস্য বিতরণের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি নির্দেশ দেন, সরকারিভাবে বিতরণ করা খাদ্যশস্যের বস্তা বা প্যাকেটে নির্ধারিত সরকারি সিল ব্যবহার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। বিতরণের সঠিক লিখিত বা ডিজিটাল প্রমাণ থাকলে যেকোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে অপরাধীদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যাতে প্রকৃত নির্ধারিত উপকারভোগী পরিবারের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও বিষাক্ত উপাদানের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ফলে বাজারে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, দুধ, জুস ও অন্যান্য নিত্যভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে বাজার নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে তাৎক্ষণিক খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক যানবাহন বা মোবাইল ল্যাব নেই। তবে ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলায় খাদ্যপণ্যের রাসায়নিক ও মান পরীক্ষার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ যানবাহন সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে তাৎক্ষণিকভাবে নমুনা পরীক্ষা করে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও কার্যকর পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষের প্রকৃত চাহিদা ও সংকটের কথা সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই তাদের গঠনমূলক পরামর্শ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে মন্ত্রণালয় থেকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো কৃত্রিম দূরত্ব থাকা উচিত নয়। সকলকে দেশের স্বার্থে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মকর্তাদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, যেসব বিষয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একক একতিয়ারে সমাধান সম্ভব হবে না, সেগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজের সুন্দর পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার মানোন্নয়ন হলে কর্মকর্তারা আরও মনোযোগ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হবেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেনসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।