মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সাশ্রয়ী শ্রেণির টিকিটের দাম গড়ে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি হয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে আকাশসীমায় বিধিনিষেধ আরোপ হওয়ায় অনেক ফ্লাইটকে বিকল্প পথে চলতে হচ্ছে। এতে জ্বালানির ব্যবহার বেড়েছে এবং খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান পরিচালনার ব্যয় আরও বাড়ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জেট জ্বালানির দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫-৯০ ডলার থেকে বেড়ে ১৫০-২০০ ডলারে পৌঁছেছে। বিমান সংস্থাগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশই জ্বালানির পেছনে যায়।
বিশেষ করে ইউরোপ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ভাড়া সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, লন্ডন থেকে মেলবোর্নে ফ্লাইটের ভাড়া ৭৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর হংকং থেকে লন্ডন রুটে বেড়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তিনি জানান, আলোচনা এগোনোর আগ পর্যন্ত ইরানের ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিমান সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো এবং ভাড়া আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তারা সরকারকে কর কমানোসহ কিছু সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে জেট জ্বালানির ঘাটতি নেই, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাত দ্রুত সমাধান না হলে বৈশ্বিক বিমান চলাচলে আরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং যাত্রীদের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
















