অতীতের বিতর্কিত নির্বাচন থেকে বেরিয়ে ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনার সময় এসেছে—এসপিদের উদ্দেশে মুহাম্মদ ইউনূসের স্পষ্ট বার্তা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অতীতের সমালোচিত নির্বাচন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এবার ‘নতুন মানদণ্ড’ তৈরির দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীর। ৬৪ জেলার এসপিদের তিনি সুষ্ঠু, সুন্দর ও চমৎকার নির্বাচন আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন—অতীতের সমালোচিত নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে এবার দেশের জন্য একটি “নতুন মানদণ্ড” তৈরি করতে হবে। আর এই পরিবর্তনের মূল দায়িত্ব পুলিশ বাহিনীকেই বহন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন,
“অতীতের নির্বাচনগুলো আমরা সবাই দেখেছি—কেউ বলে প্রহসনের নির্বাচন, কেউ বলে তামাশা। এবার আমাদের সেই জায়গা থেকে অনেক উপরে উঠে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে হবে।”
‘ঐতিহাসিক নির্বাচন, শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে’
ইউনূস উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন—তাদের আত্মত্যাগ থেকেই জন্ম নিয়েছে এই নির্বাচন।
“এই নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ তৈরি করবে এটি।”
সরকার ও নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে—আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।
‘গণভোট হবে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট মিলেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হবে। এই ভিত্তি শতবর্ষ ধরে জাতিকে এগিয়ে নেবে।”
তিনি এসপিদের সতর্ক করে দেন—বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ও পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবেন।
“এ নির্বাচনকে বিশ্বের কাছে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরতেই হবে।”
সৃজনশীল, উদ্যোগী হতে নির্দেশ
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, দায়িত্ব পালন শুধু নিয়ম অনুসরণ নয়—“সব কথা কাগজে লেখা যায় না।” বাস্তব পরিস্থিতিতে সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতার পরীক্ষা।
তিনি আরও প্রস্তাব করেন—পুলিশ সদস্যদের মধ্যে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার ব্যবস্থা চালু করলে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ বাড়বে।
সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বকস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং আইজিপি বাহারুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
















