সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য, পাহাড় কিংবা স্বচ্ছ পানির ঝরনার রঙিন ছবি ও ভিডিও দেখে হুট করে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা পর্যটকদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রদর্শিত সব পোস্ট বর্তমান বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন না-ও হতে পারে। ফলে কেবল কোনো পোস্টের সৌন্দর্য দেখে ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে অপ্রত্যাশিত ভোগান্তি, অতিরিক্ত খরচ এমনকি নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করছেন ভ্রমণ বিশ্লেষকেরা।
সামাজিক মাধ্যমের কোনো পোস্ট দেখে যাত্রা শুরুর আগে পোস্টের ছবি বা ভিডিওটি ঠিক কত দিন আগের, তা নিশ্চিত হওয়া প্রথম জরুরি পদক্ষেপ। বছরখানিক পুরোনো ছবির ওপর ভিত্তি করে রওনা দিলে বর্তমানের পরিবর্তিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা কিংবা আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বিপাকে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি ক্যাপশনে দেওয়া স্থানের নাম ও অবস্থান গুগল ম্যাপ বা স্থানীয় তথ্যপত্রের সাথে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাহাড়ি অঞ্চল, নদী বা সীমান্তে ভ্রমণের সময় আকস্মিক বন্যা, বৃষ্টি কিংবা পাহাড়ধসের মতো আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রাকৃতিক ঝুঁকি আগেভাগেই পরখ করা উচিত।
অন্যদিকে দুর্গম এলাকা বা বিশেষ সংরক্ষিত অঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশাধিকার বর্তমানে উন্মুক্ত কি না, এবং ঢাকা বা প্রধান শহর থেকে পৌঁছানোর প্রকৃত যাতায়াত ব্যবস্থা ও সময়সূচির সঠিক হিসাব নেওয়া আবশ্যিক। বিশেষ করে পরিবার, শিশু কিংবা জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণের পূর্বে থাকার হোটেল, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার তথ্য যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
সামাজিক প্ল্যাটফর্মে অনেক সময় আংশিক খরচ উল্লেখ করে কম বাজেটের বিভ্রান্তিকর বিবরণ দেখা যায়, যা বর্তমান বাজারদরের সাথে মেলে না। অতিরিক্ত এডিট করা আলো-রঙের ছবি বা ড্রোনের নজরকাড়া শটে বিভ্রান্ত না হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত স্থান ঘুরে আসা পর্যটকদের সুনির্দিষ্ট রিভিউ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। পরিশেষে, সামাজিক মাধ্যমের অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টকে চূড়ান্ত নির্দেশিকা হিসেবে না দেখে প্রাথমিক সূত্র ধরে বাস্তব তথ্যের সত্যতা যাচাই করেই গন্তব্য নির্ধারণ করা নিরাপদ।


























