চট্টগ্রাম থেকে পৌঁছানোর পর দুই দিন ধরে অপেক্ষায় কন্টেইনারবাহী ট্রাক, কলকাতার অনুমতির অভাবে বন্ধ পথযাত্রা
থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট চালান ভারতের রোড পারমিট না পাওয়ায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছে। কর্তৃপক্ষ বলছে—সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন, তবে ভারতের অনুমতি পেলেই পাঠানো হবে। ট্রায়াল রান হলেও দুর্বল অবকাঠামো ও প্রশাসনিক জটিলতায় উদ্বেগ বাড়ছে।
থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা ভুটানের প্রথম ট্রানশিপমেন্ট পণ্য ভারতের রোড পারমিট না পাওয়ায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে গেছে। শুক্রবার সকালেই কন্টেইনারবাহী ট্রাকটি স্থলবন্দরে পৌঁছালেও রোববার দুপুর পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি না মিলায় পণ্য পাঠানো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ–ভুটান ট্রানজিট চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই ‘ট্রায়াল রান’ নিয়ে বন্দর এলাকায় ব্যবসায়ীদের উচ্ছ্বাস থাকলেও দুর্বল অবকাঠামো, সড়কের বেহাল দশা এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চালান বহনকারী আলমগীর হোসেন জানান, প্রায় ২০ ঘণ্টা ভ্রমণ করে চট্টগ্রাম থেকে বুড়িমারী পৌঁছানোর পর দুই দিন ধরে বসে আছেন ভারতের অনুমতির অপেক্ষায়। “এভাবে আটকা পড়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি,” বলেন তিনি।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক হোসেন বলছেন, ট্রানশিপমেন্ট কার্যক্রম নিয়মিত হলে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এই রুট।
স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, বাংলাদেশের সব আনুষ্ঠানিকতা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। “ভারত যে মুহূর্তে অনুমতি দেবে, আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য পাঠাতে পারব,” বলেন তিনি। রবিবার ভারতীয় পক্ষের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে লিখিত অনুমতি পাওয়া যায়নি; মৌখিক অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
২০২৩ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রানজিট চুক্তির পর এই প্রথম বাস্তব পরিবহন পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভুটানের পণ্য পরিবহনে ভারতের ভূমি ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন হওয়ায় কলকাতা কর্তৃপক্ষের সম্মতির ওপর নির্ভর করছে পুরো প্রক্রিয়া।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিশেষ করে বাংলাদেশ–ভুটান–ভারত সংযোগের ক্ষেত্রে এই ট্রায়াল রানকে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এই করিডর পুরোপুরি কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
















