২০০৯–২০২৪ সালে বৈষম্য ও অবিচারের শিকার ৪০৫ অভিযোগ যাচাই, ১১৪ জনের পুনর্বাসন–পদোন্নতির সুপারিশ
২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বৈষম্য, গুম, নির্যাতন ও অবৈধ বরখাস্তের শিকার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভয়াবহ অনিয়ম, বেআইনি আটক, মিথ্যা মামলা ও শাস্তির চিত্র উঠে এসেছে। মোট ১১৪ জনের পুনর্বাসন, পদোন্নতি ও সুবিধা বহালের সুপারিশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য, অন্যায় শাস্তি, গুম ও অবৈধ বরখাস্তের অভিযোগে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি বলেন, “যা পেয়েছি, তা কল্পনার বাইরেও ভয়াবহ। সরকার বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে ঘটে যাওয়া বৈষম্য, শাস্তি, বরখাস্ত ও নিপীড়নের অভিযোগ যাচাই করতে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৭৩৩টি অভিযোগের মধ্যে ৪০৫টি গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। তদন্ত শেষে ১১৪ জন সদস্যের পুনর্বাসন, স্বাভাবিক অবসর, পদোন্নতি, বকেয়া বেতন–ভাতা ও বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। চারজনকে চাকরিতে পুনর্বহালেরও সুপারিশ রয়েছে।
কমিটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অন্তত ছয়জন অফিসারকে রাজনৈতিক সম্পর্ক বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা অভিযোগে ১ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত গুম করে রাখা হয়েছিল—যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে ‘জঙ্গি’ নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়, যার স্ত্রীকে সন্তানসহ ছয় বছর কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।
তদন্তে আরও পাওয়া যায়, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কয়েকজন অফিসারকে ‘ব্যারিস্টার তাপস হত্যা প্রচেষ্টা’ নামে ভুয়া মামলায় নির্যাতন করা হয়। আবার ১/১১–পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইতে কর্মরত পাঁচ অফিসারকে অভিযোগ ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়েছিল। ধর্মীয় আচরণ পালন করায় কয়েকজন কনিষ্ঠ অফিসারকে ‘জঙ্গি ট্যাগ’ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।
কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেককে আইনবহির্ভূতভাবে আটক রেখে নির্যাতন, প্রহসনমূলক তদন্ত, প্রমোশন আটকে দেওয়া, ভাতা বন্ধ ও নানা আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর ১১৪ জন, নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমান বাহিনীর ১২ জনকে নিয়ে নির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ জানান, প্রতিটি অভিযোগ সাক্ষাৎকার, ফোনে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলা এবং ডসিয়ার পর্যালোচনার মাধ্যমে কঠোর পেশাদার মানদণ্ডে যাচাই করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদন হাতে পেয়ে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, “বিচারহীনতা ও অবিচারের কালো অধ্যায় বন্ধ করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
















