অক্টোবর ৪, ২০২৫ — বিতাড়িত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন সম্প্রতি বাংলা মুসলিমদের সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। নাসরিন বলেন, “বাঙালি সংস্কৃতি, মুসলিম-বাঙালি সহ, মূলত হিন্দু ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং সব বাঙালি, ধর্ম নির্বিশেষে, ভারতীয় পরিচয়ভুক্ত।”
দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় নাসরিন তার অনলাইন পোস্টে ছবি শেয়ার করে এই মত প্রকাশ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, বাঙালিরা ধর্মের পার্থক্য উপেক্ষা করে একক সাংস্কৃতিক ভিত্তি শেয়ার করে। নাসরিন বলেন, “হিন্দু সংস্কৃতি হলো বাঙালি সংস্কৃতির মূল। ভারতীয় ইতিহাসে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম ও নাস্তিক পূর্বপুরুষরা মূলত ভারতীয় হিন্দু ছিলেন। বাঙালি মুসলিমরাও মূলত স্থানীয় বাঙালি সংস্কৃতির অধীনে পরিচিত।”
এর প্রেক্ষিতে প্রখ্যাত কবি ও গীতিকার জাভেদ আখতার মন্তব্য করেন, তিনি বাঙালি সংস্কৃতির গুরুত্ব স্বীকার করেন, তবে গঙ্গা-যমুনী আবাদি সংস্কৃতির সমন্বিত ঐতিহ্যের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। আখতার বলেন, “আমরা আবাদির মানুষ বাঙালি সংস্কৃতি, ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু কেউ যদি গঙ্গা-যমুনী আবাদি সংস্কৃতির মর্যাদা, সূক্ষ্মতা ও পরিশীলন বোঝে না, তা তার ব্যক্তিগত ক্ষতি।”

তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় সংস্কৃতি সবসময় বাইরের প্রভাবকে নিজেদের শর্তে গ্রহণ করেছে। ফারসী ও মধ্য এশীয় সংস্কৃতি, পশ্চিমা সংস্কৃতির মতো, আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে প্রবেশ করেছে, কিন্তু সবসময় ভারতীয় শর্তে। অনেক বাঙালি উপাধি ফারসী উৎসের।”
এই মন্তব্যবিনিময় নতুন করে সাংস্কৃতিক পরিচয়, সংমিশ্রণ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক ভিত্তি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
















