ভোটার উপস্থিতি, শান্তিপূর্ণ প্রচার ও সঠিক গণনা—স্বচ্ছ নির্বাচনের তিনটি মূল শর্ত উল্লেখ রুডিগার লোৎজের
ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ বলেছেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ, ভোটারদের অবারিত সুযোগ এবং শান্তিপূর্ণ প্রচার অপরিহার্য। ভোটার উপস্থিতি ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিও গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন তিনি।
অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো বাধা ছাড়া জনগণের অংশগ্রহণ এবং বৃহৎ সংখ্যায় রাজনৈতিক দলের অংশ নেওয়াকে মৌলিক শর্ত হিসেবে দেখছে জার্মানি। ঢাকায় জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোৎজ বলেছেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে বোঝায় এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে পুরুষ-নারী নির্বিশেষে কেউই ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধাপ্রাপ্ত হবে না এবং রাজনৈতিক দলগুলো সমান সুযোগে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
বুধবার সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বৃহৎ সংখ্যায় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তার মতে, শান্তিপূর্ণ প্রচার, সহিংসতা পরিহার, অধিক ভোটার উপস্থিতি এবং সঠিক ভোট গণনা—এসবই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপরিহার্য উপাদান। তিনি উল্লেখ করেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ৬০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতিকে লক্ষ্য হিসেবে ধরেছেন, যা তার মতে বাস্তবসম্মত একটি সংখ্যা। অনেক পশ্চিমা দেশে ভোটার উপস্থিতি ৫০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও তা নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভোট গণনা সঠিক হওয়া এবং অভিব্যক্তির স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকেও নির্বাচন ব্যবস্থার মূল অংশ বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত লোৎজ। তিনি বলেন, এমন একটি প্রক্রিয়া প্রয়োজন যেখানে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হবে না এবং বিদেশে থাকা ভোটারদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা যাবে।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন, এবং পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এক মামলায় তাকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারবে না। শরিক দলগুলোর অংশগ্রহণও এখনো অনিশ্চিত। অন্যদিকে এনসিপি, বিএনপি-জামায়াত এবং বামধারার দলগুলো নির্বাচনে মাঠে আছে।
জাতিসংঘসহ পশ্চিমা কূটনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর জোর দিচ্ছেন। ২০১৪ সালের পর নির্বাচনগুলোর আগে বিরোধীদের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ যে ‘জনগণের অংশগ্রহণ’কে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলেছিল, এবার সেই একই ব্যাখ্যা তুলে ধরছেন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।
জার্মান রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে জার্মানিও বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশ এখন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখ—এটি শুধু দেশের নয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা।
অনুষ্ঠানে ডিক্যাব সভাপতি একেএম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মামুনও বক্তব্য রাখেন।
















