বিচারকের পর্যবেক্ষণ: চারবারের প্রধানমন্ত্রী কীভাবে তথ্য গোপন ও মিথ্যা হলফনামা দেন
পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির মামলায় সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে দুদক। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে মিথ্যা হলফনামা ও তথ্য গোপন করেন তা বিচারকের কাছে অবিশ্বাস্য লেগেছে। হাসিনা পরিবারসহ মোট ২৩ আসামির রায়ে বিভিন্ন মেয়াদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন না হওয়ায় হতাশা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার পর দুদকের কৌঁসুলি খান মো. মাইনুল হাসান লিপন সাংবাদিকদের বলেন, তারা সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছিলেন। কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
তিনি জানান, রায়ে আদালত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ করেছে। বিচারক উল্লেখ করেন, একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী—চারবারের প্রধানমন্ত্রী—কীভাবে মিথ্যা হলফনামা দিতে পারেন এবং তথ্য গোপন করতে পারেন, তা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। বিচারকের ভাষায়, জনগণের সম্পদ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন সংশোধন ও নতুন আইন সংযোজন সম্পর্কেও আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পূর্বাচলের প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিন মামলার একটিতে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে এবং আরেকটিতে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযোগ ছিল, ঢাকা শহরে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা সেই তথ্য গোপন করে আইন ভেঙে ১০ কাঠা আকারের তিনটি প্লট বরাদ্দ নেন। আদালতের রায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
হাসিনা পরিবারের তিন সদস্য ছাড়াও মোট ২৩ জন আসামি ছিলেন এ মামলাগুলোতে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার ছিলেন কেবল রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। গত ২৯ অক্টোবর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতকে সম্মান জানিয়ে আত্মসমর্পণ করায় তাকে লঘু শাস্তি হিসেবে তিন মামলায় মোট তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২৩ আসামির মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেয়ে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করবে।
















