ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ৩.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে এ কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎস ছিল ঢাকা থেকে ৩১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। ভলকানো ডিসকভারি ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর ঘোড়াশাল, যা স্বল্পমাত্রার ভূমিকম্প হিসেবেই বিবেচিত।
এ নিয়ে গতকাল মধ্যরাত থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে তিনবার ভূমিকম্প হয়েছে।
- প্রথম কম্পন: বুধবার রাত ৩টা ২৯ মিনিটে, টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে, ৪.০ মাত্রা
- দ্বিতীয় কম্পন: ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে, সিলেটে ৩.৪ মাত্রা
- তৃতীয় কম্পন: আজ বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ৩.৬ মাত্রা
ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি সম্ভব?
২০২৩ সালে তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভারত–পাকিস্তানে বড় ভূমিকম্প আসবে বলে গুজব ছড়ায়। তবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানান—
ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট সময়, স্থান বা মাত্রা আগে থেকে বলা অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পন প্রকৌশলী প্রফেসর মাইকেল ব্রুনো বলেন—
“ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে জানানোর মতো কোনো বিজ্ঞান বা প্রযুক্তি পৃথিবীতে নেই।”
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষক এগিল হোকসনও বলেছেন—
“ভূমিকম্প কখন হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা এখনো অসম্ভব।”
সুতরাং সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ঘনত্ব আতঙ্ক নয়, বরং স্বাভাবিক ভূ-কম্পনগত কার্যকলাপের অংশ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
















