ফরাসি প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি ও যুদ্ধকালীন প্রচারণা পরিচালনার সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং চতুর্থ একজনকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বুধবার জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এক রুশ পুরুষ, যাকে প্যারিসের আর্ক দে ত্রিওমফে প্রো-মস্কো পোস্টার লাগাতে দেখা গেছে; রুশ বংশোদ্ভূত ৪০ বছর বয়সী এক নারী, যিনি ফরাসি-রুশ SOS Donbass নামের সংগঠনের প্রধান; এবং প্যারিসের উত্তরের এক উপশহরের ৬৩ বছর বয়সী ব্যক্তি।
৫৮ বছর বয়সী অপর সন্দেহভাজনকে আটক না করে পুলিশি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে, এবং তাকে সপ্তাহে একবার থানায় হাজিরা দিতে হবে।
ফরাসি অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা DGSI জানায়, SOS Donbass-এর নারী প্রধানকে বছরের শুরু থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। তিনি ফরাসি কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মার্চে তার বিরুদ্ধে “বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ”সহ গুরুতর অভিযোগে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড।
এই অভিযান ইউরোপজুড়ে রুশ গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা ঘিরে মহাদেশজুড়ে নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে মস্কোর গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে তিন ব্যক্তিকে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাকে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক ঘটনায় লন্ডনে অগ্নিসংযোগে জড়িত দুই যুবককে ওয়াগনার গ্রুপের হয়ে কাজ করার দায়ে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মার্চে তিন বুলগেরীয় নাগরিককে যুক্তরাজ্যে দোষী সাব্যস্ত করা হয়, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নজরদারি চালাত বলে অভিযোগ ছিল।
গত সপ্তাহে উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জন হিলি অভিযোগ করেন, স্কটল্যান্ডের উপকূলের কাছে রুশ নজরদারি জাহাজ ইয়ানতার ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের পাইলটদের লক্ষ্য করে লেজার ছোড়ে। হিলি এটিকে “বেপরোয়া ও বিপজ্জনক” উল্লেখ করে বলেন, কোনো সীমান্ত লঙ্ঘন হলে যুক্তরাজ্য প্রতিক্রিয়া জানাবে।
রাশিয়া বরাবরের মতো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, এবং যুক্তরাজ্যকে দেশের ভেতর যেকোনো “খারাপ ঘটনার” জন্য মস্কোকে দায়ী করার অভিযোগ তোলে।
এদিকে, সুইজারল্যান্ডের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি রুশ গুপ্তচরদের কার্যক্রমের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। অনুমান অনুযায়ী, দেশটিতে রাশিয়ার অনুমোদিত কর্মকর্তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই গোপনে গোয়েন্দা কার্যক্রমে জড়িত।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইংলিশ চ্যানেলে রুশ যুদ্ধজাহাজ ও ট্যাঙ্কার আটক করা হয়েছে, এবং গত দুই বছরে যুক্তরাজ্য উপকূলে রুশ নৌচলাচল ৩০ শতাংশ বেড়েছে। ন্যাটোও ইউক্রেন সীমান্তে আকাশ টহল বাড়িয়েছে, বিশেষ করে পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রুশ ড্রোন ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার পর।
গত বছর ফিনল্যান্ড একটি রাশিয়া-সম্পৃক্ত জাহাজ জব্দ করে, যা ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মধ্যে সমুদ্রগর্ভস্থ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়।
















