সামাজিক মাধ্যম এক্স–এ নতুন চালু হওয়া লোকেশন স্বচ্ছতা ফিচার প্রকাশের পর বহু উচ্চ–সম্পৃক্ততার রাজনৈতিক অ্যাকাউন্টকে বিভ্রান্তিকর পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে যারা নিজেকে আমেরিকান ভোটার বা দলের সমর্থক বলে দাবি করছিল, তাদের অনেকেই বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছে বলে দেখাচ্ছে এক্সের নতুন তথ্য।
ফিচারটি “about this account” ট্যাবে দেখা যায়, যেখানে অ্যাকাউন্টের অবস্থান, পূর্বের ইউজারনেম এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ধরন সম্পর্কিত তথ্য দেখানো হয়। যদিও এক্স জানিয়েছে, ভিপিএন ব্যবহার বা ভ্রমণের কারণে তথ্য প্রভাবিত হতে পারে, তবুও প্রতিষ্ঠানটির প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ের দাবি করেছেন—তথ্য ৯৯% সঠিক।
সম্প্রতি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশালে “TRUMP_ARMY_” নামে এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট শেয়ার করেন। অ্যাকাউন্টটি ৫ লাখের বেশি অনুসারী পেয়েছে এবং একজন সিনিয়র রিপাবলিকান সিনেটরও সেটি অনুসরণ করেন। কিন্তু এক্স দেখিয়েছে অ্যাকাউন্টটি ভারতে অবস্থিত এবং ২০২২ সাল থেকে চারবার নাম বদলেছে।
আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাকাউন্ট “IvankaNews_”, যা নিজেকে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের ভক্ত বলে দাবি করে, বাস্তবে নাইজেরিয়ায় অবস্থিত। এটি ১ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী পেয়েছিল এবং ২০১০ সালের পর থেকে ১১ বার ইউজারনেম বদলেছে। লোকেশন প্রকাশের পর অ্যাকাউন্টটি দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে না থাকলেও ট্রাম্পকে সমর্থন করে। পরে এক্স অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
বিবিসি ভেরিফাই আরও কয়েকটি অ্যান্টি–ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করেছে যেগুলো নিজেদের ডেমোক্রেট সমর্থক দাবি করলেও আসলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে—যেমন কেনিয়া—থেকে পরিচালিত।
স্কটিশ স্বাধীনতাপন্থী দাবি করা কিছু অ্যাকাউন্টের লোকেশনও ভিন্ন বেরিয়েছে। সেগুলো স্কটল্যান্ড নয়, বরং ইরান থেকে অ্যাক্সেস করা হয়েছে বলে তথ্য দেখিয়েছে এক্স। যদিও এসব অ্যাকাউন্টের অনুসারী সংখ্যা খুব কম।
বেশিরভাগ অ্যাকাউন্টেই দেখা গেছে ব্লু-টিক, যা নির্দেশ করে এগুলো প্রিমিয়াম সাবস্ক্রাইবার এবং উচ্চ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আয় করার যোগ্য। গবেষকদের মতে, রাজনৈতিক বা সামাজিক উত্তেজনা বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের অ্যাকাউন্ট আর্থিক লাভের চেষ্টা করে।
কর্নেল টেকের গবেষক আলেক্সিওস মান্টজারলিস বলেন, ব্লু-টিক ব্যবস্থা মূলত রাজস্ব বৃদ্ধির উপায়, প্রকৃত পরিচয় যাচাই নয়। তবে ‘কমিউনিটি নোটস’–এর মতো উদ্যোগ স্বচ্ছতা বাড়াচ্ছে।
ড্যারেন লিনভিল, মিডিয়া ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, বলেন—এ ধরনের অ্যাকাউন্টের উদ্দেশ্য নানা—কিছু রাষ্ট্র–সমর্থিত ট্রল ফার্ম চালায়, কিছু আবার শুধু আমেরিকান সাজিয়ে অর্থ উপার্জন করতে চায়।
তবে তিনি সতর্ক করেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীরা দ্রুত অভিযোজিত হবে। ভিপিএন বা অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা আবারও লোকেশন গোপন করতে পারবে।
















