ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে দেশটির দুই নাগরিক বর্তমানে বাংলাদেশের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলার সুখচর থানার বাসিন্দা মো. ইসমাইল হোসেন (৩৫) ও মো. আব্দুল আলিম মণ্ডল (৩৯) নামের ওই দুই ব্যক্তি দাবি করেছেন যে, বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের জোরপূর্বক বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে গুলি চালিয়ে সীমান্ত এলাকায় ফেলে রেখে গিয়েছিল। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া বাংলাদেশে প্রবেশের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পরবর্তীতে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনার বিবরণী অনুযায়ী, গত রবিবার (৪ অক্টোবর) স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং ওই দিনই রাত পৌনে দুইটার দিকে তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় এ সংক্রান্ত মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সাঈদ বাবলা। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত ইসমাইল হোসেন ও আব্দুল আলিম সংবাদমাধ্যমের কাছে পুরো ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। ইসমাইল হোসেন জানান, সীমান্তের চরে গরু বাঁধতে যাওয়া ছোট ভাইদের কাছ থেকে গরু আনতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে ডেকে পাঠায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তাঁকে একটি শ্যালো নৌকায় উঠতে বাধ্য করা হয় এবং নৌকায় তোলার পর তাঁকে মারধর করা হয়। এ সময় আব্দুল আলিম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাঁকে ধরে ফেলে এবং তাঁকেও মারধর করে। ইসমাইল আরও জানান, যখন বিএসএফ সদস্যরা তাঁদেরকে বাংলাদেশের লোক বলে দাবি করে, তখন তাঁরা প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে তাঁরা ভারতের নাগরিক এবং ভারতেই ফিরে যেতে চান। এরপর তিনি সামান্য এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাঁর বুকে সরাসরি গুলি চালায়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গীকেও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে আব্দুল আলিম জানান, চরের মধ্যে গরু আনতে যাওয়ার পর বিএসএফ তাঁদের ডেকে পাঠায় এবং দাবি করে যে তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশে। মারধর করার পর তাঁদের পানির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁরা সাঁতরে কোনোমতে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছান। পরবর্তীতে বাংলাদেশের কিছু স্থানীয় মাছ ধরা মানুষ তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে তাঁরা জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক এবং সুস্থ হয়ে নিরাপদে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান।
এ বিষয়ে মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান যে, ডিবি পুলিশ এই মামলা দায়ের করেছে এবং আইন অনুযায়ী সুস্থ হওয়ার পর তাঁদের আদালতে বা জেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। হাসপাতালের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার বাদী ও ডিবির এসআই মো. আবু সাঈদ বাবলা জানান যে, ভারতের ওই দুই নাগরিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁদের কিছুটা সময় লাগবে।























