সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান কোয়াডের উপস্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট এবং এই পরিকল্পনা মূলত সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সকে (আরএসএফ) তাদের অবস্থানে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তৈরি।
দীর্ঘদিন ধরে ইউএই আরএসএফকে অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এ বছরের মার্চে তারা সুদানের দাখিল করা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলাকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছিল, এটি কেবলই রাজনৈতিক প্রচারণা।
রবিবার জারি করা নিজের কার্যালয়ের বক্তব্যে আল-বুরহান বলেন, কোয়াডের—যেখানে রয়েছে মিশর, সৌদি আরব, ইউএই ও যুক্তরাষ্ট্র—পক্ষ থেকে দেওয়া পরিকল্পনা আসলে সুদানের সেনাবাহিনীকে বিলুপ্ত করে সব নিরাপত্তা সংস্থাকে ভেঙে দিতে চায়, আর বিদ্রোহী বাহিনী আরএসএফকে একই জায়গায় রেখে দেয়।
এর ফলে যুদ্ধবিরতির পথ আরও দূরে সরে যাচ্ছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সুদানের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত, দশ হাজারেরও বেশি নিহত এবং মানবিক বিপর্যয় ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
আল-বুরহান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঞ্চলিক উপদেষ্টা মাসাদ বুলুসকেও কঠোর সমালোচনা করেন। বুলুস সেনাবাহিনীকে মানবিক সহায়তায় বাধা এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। আল-বুরহান বলেন, বুলুসের অবস্থান শান্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে তিনি ট্রাম্প ও সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রশংসা করে বলেন, তারা সুদানের যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
একই সঙ্গে তিনি কোয়াডের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর ভাষায়, “বিশ্ব দেখেছে ইউএই কীভাবে সুদানের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছে।” তিনি সতর্ক করেন, মধ্যস্থতা যদি এভাবেই চলতে থাকে, সুদানের সেনাবাহিনী এটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলেই গণ্য করবে।
অন্যদিকে আরএসএফ জানিয়েছে, তারা কোয়াডের প্রস্তাবিত মানবিক যুদ্ধবিরতির অংশে সম্মত। তিন মাসের জন্য যুদ্ধ থামিয়ে রাজনৈতিক শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার এই পরিকল্পনা নতুন বেসামরিক সরকার গঠনের পথ খুলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু একই সময়ে দারফুরে আরএসএফের তাণ্ডব কমছে না। এল-ফাশের থেকে সেনাবাহিনীকে হটিয়ে অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, আরএসএফ যোদ্ধারা গণহত্যার প্রমাণ মুছতে জ্বালিয়ে দিচ্ছে ও গোপনে লাশ সমাধিস্থ করছে। বহু মানুষ নিখোঁজ, সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিক বিশেষ করে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে।
কেন্দ্রীয় কোরদোফান অঞ্চলেও সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াই চলছে। গত শনিবার আরএসএফ আবারও দাবি করেছে, তারা পশ্চিম কোরদোফানের কৌশলগত শহর বাবনুসা দখলের প্রান্তে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে খার্তুমসহ বিভিন্ন জায়গায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের জীবন কেড়েছে। জাতিসংঘ বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। তারা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া, বহু অঞ্চল দুর্ভিক্ষে পতিত।
সুদানের আকাশ এখনো ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরা, আর শান্তির আলো যেন দূরের এক অসম্ভব তারার মতো ক্ষীণ হয়ে আসছে।
















