নতুন নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরঞ্জাম চালু করার দৌড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মগ্ন, আর ব্যবহারকারীরা অবাক চোখে ভাবছেন, কতটুকু ব্যক্তিগত তথ্য এই সিস্টেমগুলো সংগ্রহ করছে।
মেটা, গুগল এবং লিঙ্কডইন সহ শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই এমন এআই ফিচার চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীর পাবলিক প্রোফাইল বা ইমেল থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। গুগল ও লিঙ্কডইন ব্যবহারকারীদের অপশন দেয় এআই ফিচার ব্যবহার না করার, কিন্তু মেটার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বলতে পারেন না “না, ধন্যবাদ।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের পোস্ট, ছবি, কথোপকথন, ভয়েস মেসেজ সবই এআই-তে ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণত পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। এই অস্বচ্ছতার কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং কখনো কখনো ভুল তথ্যের প্রচারও ঘটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করতে চাইলে শর্তাবলী পড়া সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
মেটা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজ সরাসরি এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে না, কিন্তু পাবলিক কনটেন্ট, যেমন পোস্ট, ছবি, কমেন্ট, রিলস সংগ্রহ করতে পারে। যারা মেটা প্ল্যাটফর্মে চ্যাটবট ব্যবহার করছেন এবং তাদের পোস্ট পাবলিক অবস্থায়, তাদের তথ্য এআই-তে ব্যবহার হতে পারে। মেটা এআই ব্যবহার বন্ধ করার কোনো সাধারণ বিকল্প নেই।
গুগলের ক্ষেত্রে, তার এআই প্রোডাক্ট জেমিনি ডিপ রিসার্চ ব্যবহারকারীর অনুমতি পেলে জিমেইল, ড্রাইভ এবং চ্যাটসহ অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করতে পারে। তবে ব্যবহারকারী চাইলে অস্থায়ী চ্যাট ব্যবহার করতে পারেন অথবা স্মার্ট ফিচার বন্ধ করে এআই-এর অ্যাক্সেস সীমিত করতে পারেন। গুগল ১৩ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের তথ্য এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করে না।
লিঙ্কডইন, মাইক্রোসফটের অধীনে, কিছু ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ও পাবলিক কনটেন্ট ব্যবহার করে কন্টেন্ট জেনারেটিং এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেয়। ব্যক্তিগত মেসেজ ব্যবহার করা হয় না এবং ব্যবহারকারীরা চাইলে এই প্রশিক্ষণ থেকে নিজেকে অপসারণ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করান, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তথ্য ব্যবহারের ওপর কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন নেই, তাই ব্যবহারকারীরা অনেক সময় এআই প্রশিক্ষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব ব্যবহারকারীদের জন্য ভয়, অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে।
আজকের যুগে প্রতিটি ক্লিক, প্রতিটি কথোপকথন, প্রতিটি ছবি প্রযুক্তির চোখে প্রতিফলিত হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা ছাড়া, আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্রমে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে, যেন শব্দের মতো ভেসে যাচ্ছে অজানার মধ্যে।
















