গণভোটের আগে ‘জেনোসাইড’ মন্তব্যে উদ্বেগ—বিএনপি নেতার দাবি, জাতিকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা হতে পারে
জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ‘নতুন ফ্যাসিবাদের ইঙ্গিত’ দেখছেন বিএনপির রুহুল কবির রিজভী। গণতন্ত্র, নির্বাচন ও গণভোট ইস্যুতে তার কঠোর সমালোচনা আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সেমিনারে উঠে আসে। বিস্তারিত বিশ্লেষণসহ প্রতিবেদন।
২৪ নভেম্বর ২০২৫
জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে ‘আরেকটি ফ্যাসিবাদ’ তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে “গণতন্ত্রে উত্তরণে করণীয়” শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যের মাধ্যমে একটি ভয়াবহ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “শেখ হাসিনা যেমন পুলিশ ও র্যাবকে দলের রাজনৈতিক বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তেমনি নতুন করে সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের আমীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে “নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে জেনোসাইড হতে পারে”—এই মন্তব্য গোটা জাতির জন্য আতঙ্কজনক। রিজভীর প্রশ্ন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান কেন এমন রক্তপাতের ইঙ্গিত দেবেন? গণতন্ত্র মানেই মতামতের ভিন্নতা, কিন্তু জেনোসাইডের হুমকি গণতান্ত্রিক আলোচনাকে বিপজ্জনক করে তোলে।”
গণভোট আগে না নির্বাচন আগে—এ বিতর্ককে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে শাহজাহান চৌধুরীর ‘রক্তগঙ্গা বইবার আশঙ্কা’ জাতীয় ইঙ্গিতকে তিনি জনমনে ভয় সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দাবি করেন।
দিনের শুরুতে নয়াপল্টনে এক দোয়া মাহফিলে যোগ দিয়ে রিজভী ঢাকার অব্যবস্থাপনা ও ভূমিদস্যুদের নিয়ে সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, “খাল-বিল দখল করে দালানতোলা লোকেরাই আবার রাজনৈতিক নেতা হয়ে ওঠেন, বিশেষ করে অতীত সরকার পরিচালনার সময়।”
উল্লেখ্য, শনিবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরী প্রশাসনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং অর্থ ও অস্ত্র প্রবাহ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
















