টিউনিসিয়ার রাজধানী টিউনিসে শনিবার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদ ও সমালোচকদের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। প্রায় দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী কালো পোশাক পরে হুইসেল ও লাল ফিতা নিয়ে “জনগণ চাই গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ”, “ভয় নেই, সন্ত্রাস নয়, রাস্তা জনগণের”—এমন স্লোগান দিতে দিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে।
অনেকে হাতে প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল “আর নয় দমন” ও “এ তিনি আমার প্রেসিডেন্ট নন”। “অন্যায়ের বিরুদ্ধে” স্লোগানে আয়োজিত এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও অধিকার কর্মীরা বিরল ঐক্য গড়ে অংশ নেয়।
এই প্রতিবাদ আয়োজন আসে কয়েক সপ্তাহ পর, যখন একজন সাবেক প্রশাসনিক বিচারক আহমেদ সুআবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগের অপব্যবহারের সমালোচনা করায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাংবাদিক সাঈদ জুয়ারি আল জাজিরাকে বলেন, এই বিক্ষোভ বিভিন্ন মতাদর্শের গোষ্ঠীর নতুন ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়। তবে তার মতে, “এই বিক্ষোভ কার্থেজ প্রাসাদের কানে তেমন পৌঁছাচ্ছে না”—ইঙ্গিত প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রতি।
টিউনিসিয়া সরকার গত কয়েক বছরে ডজনখানেক বিরোধী নেতা, সাংবাদিক, আইনজীবী ও ব্যবসায়ীদের “রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের” অভিযোগে আটক করেছে। সমালোচকদের দাবি, সাঈদ বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করছেন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমন করতে।
২০১১ সালের বিপ্লবের পর টিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে বিরোধীরা সতর্ক করছে। বিক্ষোভের আয়োজক আয়িউব আমারা বলেন, “গত ১৪ বছরের অগ্রগতি ভেঙে গেছে। টিউনিসিয়া সবার জন্য সমান, একজন মানুষের ইচ্ছায় দেশ চলতে পারে না।”
বিরোধী নেতা আবদেলহামিদ জল্লাসির স্ত্রী মনিয়া ব্রাহিম বলেন, তিনি মিছিলে এসেছেন দেশের সাধারণ মানুষের ওপর “গভীর অন্যায়” চলছে বলে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক বন্দিরা জানেন তারা ন্যায়বিচারের জন্য মূল্য দিচ্ছেন। তাদের অধিকার রক্ষায় আমাদেরও রাস্তায় নামতে হবে।”
বর্তমানে কয়েকজন বন্দি অনশন কর্মসূচি পালন করছেন, যার মধ্যে আছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ জাউহার বেন এমবারেক, যিনি ২০ দিনের বেশি অনশনে আছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও নাগরিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় টিউনিসিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ওপর দমন নীতি ও বেশ কিছু নাগরিক সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করার প্রতিবাদেও আন্দোলন হয়েছে।
২০১৯ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও ২০২1 সালে সাঈদ সংসদ স্থগিত করে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন। এরপর তিনি বিরোধী দল এননাহদা-সহ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেন। এননাহদার প্রধান রাশেদ ঘানুশিকে দেওয়া বিভিন্ন কারাদণ্ডকে তার সমর্থকরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলছেন।
এমনকি সাঈদের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রধান উপদেষ্টা নাদিয়া আকাকাকেও অনুপস্থিতিতে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের কঠোর অভিযান নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত করে ফেলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, অন্তত ১৪টি এনজিওকে লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, সম্পদ জব্দ, ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ৫০ জনের বেশি মানুষ—রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক ও কর্মী—স্বেচ্ছাচারী গ্রেপ্তার বা মামলা মোকাবিলা করছেন শুধুমাত্র মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য।
অভিযোগের জবাবে সাঈদ বলেন, তিনি “বিশ্বাসঘাতকদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছেন”, এবং একনায়ক হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
















