মালয়েশিয়া জানিয়েছে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে প্রাণহানি বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত পাঠানো হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসনের আগে প্রত্যেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।
বুধবার সরকারি মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল জানান, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ঘোষিত প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নিবন্ধিত ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা, যা দেশটির সবচেয়ে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠী। তবে মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর আইনি মর্যাদা স্বীকৃতি দেয় না।
সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অনলাইন বিদ্বেষ, ভুয়া তথ্য প্রচার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। এর জেরে কয়েকটি শরণার্থী স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, অনেককে বসতি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল।
ফাহমি ফাদজিল বলেন, মালয়েশিয়া একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে এমন কাউকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে না, যার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক সরকার শরণার্থীদের গ্রহণে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে, তবুও সব নিরাপত্তা মানদণ্ড যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বিদ্যমান। তাই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।















