নারিনজা নিউজের খবরে জানা গেছে, ২১ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (ARA) সদস্যদের দ্বারা দুই রাখাইন যুবকের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায়। সম্প্রদায়ের নেতারা মনে করছেন, এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা উসকে দিতে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবককে হাত পিছনে বাঁধা অবস্থায় গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে, এবং একজন অস্ত্রধারী ARA সদস্য তাদের মাথা ও বুকে লাথি মারছে ও বার্মিজ ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এক যুবক নিজের পরিচয় দেন ঙ্ঘুয়ে গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে। অপরজন রাখাইন সংগীতশিল্পী খাইং মিন থুই।
এই ভিডিওগুলো মংডু টাউনশিপে ধারণ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি নাক্কা সীমান্ত পুলিশ সদর দপ্তর দখলের আগেই। নারিনজা নিউজের মংডু প্রতিনিধি জানান, খাইং মিন থুই ও ঙ্ঘুয়ে গ্রামের অপর যুবককে ইতালিয়ান ও থিহো চান রাস্তামোড়ের একটি স্কুল থেকে আটক করা হয়। মুক্তির আগে তারা গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন।
মংডু অঞ্চলের এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, দীর্ঘ এক বছর পর এই ভিডিও প্রচার স্পষ্টভাবে জাতিগত–ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। তিনি রাখাইন জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আবেগী প্রতিক্রিয়া না দেখাতে অনুরোধ করেন।
তার মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী স্থলযুদ্ধে AA-র বিরুদ্ধে ফলপ্রসূ হতে না পেরে পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “এই ভিডিও দেখে প্রথমে আমারও রাগ হয়েছিল, কিন্তু পরে বুঝলাম এটা একটি ফাঁদ।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আরাকান আর্মি শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে। এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ও তাদের মুসলিম মিত্র গোষ্ঠীগুলো এসব ভিডিও ছড়িয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন উস্কে দিতে চাইছে।
ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, আরাকান আর্মির মুখপাত্র উ খাইং থু খা জানান, তারা ভিডিও ফাইল পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
ভিডিওতে দেখা দুই যুবকের একজন ঙ্ঘুয়ে গ্রামের বাসিন্দা, যিনি গত বছর সেনাবাহিনীর সহযোগী মুসলিম গোষ্ঠীর হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন বলে তার পোস্টে উল্লেখ রয়েছে।
















