আসাম প্রদেশ বিজেপি ২২ নভেম্বর জানায়, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মূলত রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও পূর্ববঙ্গ-উৎপত্তির মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। দলটির মতে, আসামের “নিরাপদ ভবিষ্যৎ” এই নির্বাচনী সমীকরণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
বিজেপির মিডিয়া প্যানেলিস্ট দিলীপ কুমার শর্মার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আদিবাসী অসমিয়াদের সুরক্ষায় “অভূতপূর্ব পদক্ষেপ” নিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পর গত ৭৭ বছরে যা কেউ করতে পারেনি, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান সরকারের বেশ কয়েকটি উদ্যোগকে “ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অসমিয়াকে শাস্ত্রীয় ভাষার স্বীকৃতি প্রদান, ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবনী বস্ত্র ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ, সুকাফা বিশ্ববিদ্যালয় ও কানকলতা বারুয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, জোরহাটে বীর লক্ষ্মীৎ বরফুকনের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং চরাইদেও মৈদামকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া।
বিজেপি অভিযোগ করে, অতীতে কংগ্রেস সরকারগুলো পূর্ববঙ্গ-উৎপত্তির মুসলমানদের তুষ্টিকরণে বেশি মনোযোগ দিয়েছে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ উপেক্ষা করেছে। শর্মার ভাষ্যমতে, শিশুবিয়ে, “লাভ জিহাদ” ও “ল্যান্ড জিহাদ”-এর বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ অসমীয়াদের পরিচয় রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকার অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং প্রতিদিনই বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সরকার, সত্র, বনভূমি, জলাভূমি ও অন্যান্য সরকারি জমিতে দখলদারিত্ব কমে এসেছে। দেড় লক্ষ বিঘার বেশি দখল করা জমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজেপির মতে, এসব বিষয়ই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাবকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। দলটি আগামী নির্বাচনকে “দ্রুত উন্নয়ন” ও “আদিবাসী সুরক্ষা”—এই দুই মূল প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করবে।
গত দুই দিনে অনুষ্ঠিত একাধিক কৌশলগত বৈঠকের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বি এল সন্তোষ, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, আসাম বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত হরিশ দ্বিবেদী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা, মুখপাত্র, প্যানেলিস্ট এবং সমন্বয়করীরাও বৈঠকে যোগ দেন।
বিজেপি জানায়, এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে ২০২৬ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।
















