৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি নরসিংদীর মাধবদীতে কেন হলো? বুয়েট ও ভূতত্ত্ববিদরা বলছেন—এটি সক্রিয় ফল্ট লাইন ও প্লেট সংযোগস্থলের কারণে স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এটিই বড় বিপদের আগাম সংকেত।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র নরসিংদীতে কেন? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হচ্ছে নতুন ভূ-ঝুঁকি
ঢাকা, ২১ নভেম্বর ২০২৫ — রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর মাধবদী। ঢাকার এত কাছে এই মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তি—সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটাই প্রথম। আর এ কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজকের কম্পন বড় ঝুঁকির আগাম সতর্কবার্তা।
বুয়েটের ভূমিকম্প গবেষক অধ্যাপক মেহেদি আনসারী জানান, বাংলাদেশের ভেতরে টেকটোনিক গতিশীলতার পাঁচটি প্রধান সোর্স রয়েছে। এর মধ্যে নোয়াখালী থেকে সিলেট পর্যন্ত বিস্তৃত যে বিশাল ফল্ট লাইন, তার একটি শাখা সরাসরি নরসিংদীর ওপর দিয়ে গেছে। আর সেই কারণেই মাধবদী এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ একই সঙ্গে তিনটি সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থান করছে। অবস্থানগতভাবে নরসিংদী পড়ে ইন্ডিয়া প্লেট ও বার্মা প্লেটের মাঝামাঝি ‘ট্রানজিশন জোনে’, যেখানে শক্তি সঞ্চয়ন দ্রুত ঘটে—এবং হঠাৎ মুক্তি পেলে তৈরি হয় ভূকম্পন।
এছাড়া সাবডাকশন জোনে ইতোমধ্যে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ দশমিক ২ মাত্রার শক্তি জমা আছে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষায়—এই শক্তি মুক্তি পেলে ঘটতে পারে ভয়াবহ ভূমিকম্প, যার প্রভাব সারা দেশেই অনুভূত হবে।
সকালের ভূমিকম্পে নরসিংদীতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এর শিকার। ভবনগুলোতে ফাটল ধরা ও স্থাপনা কেঁপে ওঠার একাধিক খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত। এখনই জরুরি ভিত্তিতে ভবন নিরাপত্তা, ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং ফল্ট লাইন পর্যবেক্ষণ জোরদার না হলে ভয়াবহ ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।
















