ইকুয়েডরের ভোটাররা বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় স্থাপনের প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে “না” জানিয়েছেন। প্রাথমিক গণনায় প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যালটের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার প্রস্তাবটি বাতিল করেছেন।
রবিবারের এই ফল ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নাবোয়ার পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা। নাবোয়া দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় বিদেশি সহযোগিতা প্রয়োজন, যার মধ্যে যৌথ বা বিদেশি সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত।
গণভোটে একইসঙ্গে একটি পৃথক প্রস্তাবও ছিল—সংবিধান পুনর্লিখনে একটি সংবিধানসভা গঠনের উদ্যোগ। এটিও প্রায় ৬১ শতাংশ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। নাবোয়া সামাজিক মাধ্যমে ফল মেনে নিয়ে বলেন, জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাচ্ছেন এবং তাদের নিরাপত্তায় কাজ চালিয়ে যাবেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মান্তা উপকূলীয় ঘাঁটিতে ফিরে আসার পথ বন্ধ হয়ে গেল। মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যবহৃত এই ঘাঁটি ২০০৮ সালে বিদেশি সেনা নিষিদ্ধ করার পর বন্ধ হয়ে যায়।
গণভোটে আরও দুটি প্রশ্ন তোলা হয়েছিল—রাজনৈতিক দলের জন্য সরকারি অর্থায়ন কমানো এবং পার্লামেন্টের সদস্য সংখ্যা ১৫১ থেকে কমিয়ে ৭৩ করা হবে কিনা। প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, এই দুটি প্রস্তাবও বড় ব্যবধানে বাতিল হয়েছে।
ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ভয়াবহ সহিংসতার প্রেক্ষাপটে, যেখানে মাদক পাচারচক্র নির্বাচনী প্রার্থী, মেয়র ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ বাড়িয়েছে। কলম্বিয়া ও পেরুর কোকেন বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হওয়ায় ইকুয়েডরের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্প্রতি ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়েছে—যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাবোয়া এই নীতিকে সমর্থন করছেন।
কুইটো থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ভোটার সার্বভৌমত্ব হারানোর আশঙ্কায় বিদেশি ঘাঁটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অতীতে বিদেশি সেনাদের বিরুদ্ধে জেলেদের নৌকা ডুবিয়ে দেয়া, যৌন শোষণ বৃদ্ধি, স্থানীয়দের দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগের কথাও স্মরণ করেছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র নাবোয়াকে মাদক ও মানব পাচার ঠেকাতে “চমৎকার অংশীদার” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে ইকুয়েডর সরকার জানিয়েছে, বিদেশি ঘাঁটির বিরুদ্ধে ভোট পড়লেও নিরাপত্তা সহযোগিতায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। গত বছর নাবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযান ও আকাশপথে আটকানোর চুক্তি অনুমোদন করেন।
ভোট শুরুর ঠিক আগেই নাবোয়া ঘোষণা দেন দেশের সবচেয়ে কুখ্যাত অপরাধচক্র লস লোবোসের নেতা ‘পিপো’ গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি নাকি নিজের মৃত্যু নাটক করে পরিচয় বদলে ইউরোপে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্পেনে যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
















