সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা প্রদেশে এ বছরের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সহিংসতায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
তদন্ত কমিটির প্রধান বিচারক হাতেম নাসসান জানান, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে যেসব নিরাপত্তা বা সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের আটক করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে স্পষ্টভাবে তাদের মুখ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। তিনি জানান, পুলিশের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হেফাজতে নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, সুয়েদার বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ড্রুজ বেসামরিক লোকজনকে প্রকাশ্যে হত্যা করছে এবং বয়স্ক পুরুষদের গোঁফ কেটে অপমান করছে। তবে নাসসান কতজনকে আটক করা হয়েছে বা কতজন নিহত হয়েছেন তা প্রকাশ করেননি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সংখ্যা জানানো হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, কিছু বিদেশি যোদ্ধা এলোমেলোভাবে সুয়েদায় ঢুকে পড়েছিল এবং তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে তাদের কেউই সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সদস্য ছিল না।
সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে এক ড্রুজ ট্রাক চালককে মহাসড়ক থেকে অপহরণের পর। দ্রুতই দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বেদুইন উপজাতির যোদ্ধারা এতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি বাহিনী মোতায়েন করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা বেদুইনদের পক্ষ নিয়েছিল। নিহতদের বেশির ভাগই ড্রুজ জনগোষ্ঠীর।
এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি হয়। এ সময় ইসরায়েলও হস্তক্ষেপ করে, ড্রুজদের রক্ষার দাবি তুলে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর ওপর সুবিস্তৃত বিমান হামলা চালায়। এমনকি রাজধানী দামেস্কে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরেও হামলা হয়।
এ ঘটনার পর সুয়েদার অনেক বাসিন্দা এখন ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলছেন, আর একটি ক্ষুদ্র অংশ পুরোপুরি আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছেন। সেপ্টেম্বরে তিনি ছয় দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে অংশ নেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর বড় বিনিয়োগ সিরিয়ার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবুও ১৪ বছরের বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করতে আল-শরার পথ এখনো চ্যালেঞ্জে ভরা—অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও বাহ্যিক জটিলতা উভয়ই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
















