ইয়েমেনের হুথিরা অরাজকতা ও ধ্বংসের পথ বেছে নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের সাধারণ মানুষকেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শূরা কাউন্সিলে বাদশাহ সালমান বিন আব্দুলআজিজ আল সৌদের পক্ষে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন।
ক্রাউন প্রিন্স সালমান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা বিনষ্টকারী যেকোনো ধরনের হামলা বা হুমকির উপযুক্ত জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না রিয়াদ। তিনি বলেন, সামরিকভাবে পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রাখার পাশাপাশি সৌদি আরব বর্তমানে উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; তবে এক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে কোনোভাবেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
ভাষণে তিনি গত আগস্ট মাসে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করা, সৌদিকে সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের জন্যই সৌদি নেতৃত্বের সদিচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের হামলা এবং তা প্রতিরোধে গঠিত বহুজাতিক প্রতিরক্ষা মেরিটাইম জোটের কথা উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ার করেন যে, লোহিত সাগর ও বাব এল মান্দেব প্রণালিকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে বা রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথিদের নতুন করে লড়াই ও উত্তেজনা চলছে। এই সংঘাতে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে এবং এর জবাবে সৌদি বিমানবাহিনীও তীব্র বিমান হামলা পরিচালনা করে আসছে।























