অবরোধের মধ্যেই জাহাজ জব্দ, যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তেহরান
তেলবাজারে অস্থিরতা, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে
মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হলেও এই অবস্থানে অনড় রয়েছে তেহরান।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, নৌ অবরোধ চলমান থাকলে যুদ্ধবিরতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, অবরোধের মধ্যে প্রণালী খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ কার্যকর রাখতে বেশ কয়েকটি জাহাজকে ফিরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে। জাহাজগুলোকে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানি উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পানামা পতাকাবাহী একটি জাহাজ জব্দের ঘটনায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
এদিকে উপসাগরীয় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। স্বল্প সময়ের জন্য তেলের দাম বেড়ে গেলেও পরে কিছুটা কমে আসে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনার সুযোগ দিতে তিনি যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে চান। তবে ইরান এখনো এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে, ফলে অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। এই পথ ঘিরে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।













