যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে ইঁদুরের উপদ্রব
অস্বাস্থ্যকর শিবিরে নারী-শিশুদের জীবন হয়ে উঠেছে আরও অনিরাপদ
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন এক ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে—রোগবাহী ইঁদুরের উপদ্রব। ধ্বংসস্তূপের পাশে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করা হাজারো পরিবার প্রতিদিন এই আতঙ্ক নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে।
গাজা সিটির এক নারী সামাহ আল-দাবলা তার ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে একটি অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন। তিনি জানান, ইঁদুরের ভয়ে তিনি সারাদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করলেও কোনো ফল পাচ্ছেন না। সম্প্রতি তার তিন বছরের মেয়েকে ইঁদুর কামড় দিলে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়, এরপর থেকে শিশুটি আতঙ্কে ঘুমাতে পারে না।
যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে শত হাজার মানুষ এখন অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে, যেখানে নেই পর্যাপ্ত স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি বা নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা। ফলে ইঁদুরসহ বিভিন্ন রোগবাহী প্রাণীর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে, বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুম ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, খাদ্য সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ ইঁদুর প্রায়ই খাবার নষ্ট করে ফেলছে। এমনকি কাপড়, তাঁবু ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও নষ্ট করছে এসব প্রাণী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুরের কামড়ে আহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে। ইঁদুরের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকিও রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।
গাজা সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ইঁদুরের বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কীটনাশক আমদানিতে বাধা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দারা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন—ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং ইঁদুর দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তাদের দাবি, নিরাপদ ও পরিষ্কার পরিবেশ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।















