আল জাজিরার ফিচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে টানা ৩৬ দিনের ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগকে আন্দোলনকারীরা তাদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন এবং এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে ব্যঙ্গাত্মক একটি আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্ট থেকে শুরু হয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের কারণে লাখো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনে নিহত বা আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তোলা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ জুলাই পার্লামেন্টমুখী মিছিলে পুলিশি অভিযান এবং শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ আরও বাড়ে। দিল্লি ছাড়াও বেঙ্গালুরু, মুম্বাই, লখনউ, জয়পুর ও পাটনাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই আন্দোলন তরুণদের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে ভয় কাটিয়ে নিজেদের মত প্রকাশের নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, ১২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদির সময়ে এ ধরনের আন্দোলনের চাপে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগ বিরল ঘটনা। তবে এটি একটি ফিচারধর্মী প্রতিবেদন; এতে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
















